Showing posts with label নেশা যখন চটি গল্প পড়া. Show all posts
Showing posts with label নেশা যখন চটি গল্প পড়া. Show all posts

Tuesday, June 28, 2016

“নেশা যখন চটিগল্প পড়া” (শেষ পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম । 


আগের কয়েকটা পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে চটিগল্পের নেশার  ভয়াবহতা সম্পর্কে ।
ইনশা আল্লাহ্‌ এই পর্বে আমরা আলোচনা করব কীভাবে দূর করবেন চটিগল্পের নেশা ।

প্রথমেই যে পরামর্শটা থাকবে সেটা হল নিচের লিখাগুলো খুব মনযোগ দিয়ে পড়ে ফেলুন ।  এগুলোতে পর্ন আসক্তি বা মাস্টারবেশন আসক্তি দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলেও চটিগল্পের নেশা দূর করার কাজে টেকনিকগুলো চোখবন্ধ করে প্রয়োগ করতে পারেন ।

 কোনরকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই  আপনার কাছে থাকা সমস্ত চটিগল্পের বই (হার্ডকপি বা সফটকপি) ধ্বংস করে ফেলুন । প্লে স্টোর থেকে পর্ন সাইট ব্লকিং এপস নামিয়ে ইন্সটল করুন ,   পিসি বা ল্যাপটপের জন্য k9 web protection  software  নামিয়ে ইন্সটল দিন  (দেখুন এই ভিডিওটি - http://tinyurl.com/gqf3gh6 ) । ফেসবুকের সব বাজে পেইজ গুলো আনলাইক করে দিন। মোদ্দা কথা হল  এমন ব্যবস্থা করুন যেন মন চাইলেই চটিগল্পের নাগাল না পাওয়া যায় । চটি গল্পের নাগাল পাওয়া কষ্টকর হয়ে গেলে দেখবেন  আপনার চটিগল্প পড়ার পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে ।  
এমন সব বন্ধুদের গুডবাই জানিয়ে দিন যারা চটিগল্প বা পর্ন মুভিতে আসক্ত । এদের সঙ্গে  ওঠা বসা করলে চটিগল্পের নেশা ছাড়া টাফ হয়ে যাবে ।  বসে আড্ডা দিচ্ছেন এদের সঙ্গে । হুট করে কেউ চটিগল্প বা পর্ন মুভির গল্প শুরু করে দিল ,  অশ্লীল কোন কিছু নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিল । তাদের আলোচনায় আপনি যোগদান না করলেও অশ্লীল কিছু টার্ম , কিছু শব্দ গেঁথে যাবে আপনার মাথায় । পরে আপনার মস্তিষ্ক যখন অলস থাকবে  , আপনি  একা  থাকবেন বা  ঘুমাতে যাবেন  তখন আপনার মাথায় ঐ শব্দ গুলো ঘুরতে থাকবে । ক্রমাগত আপনাকে  জালাতে থাকবে । চটিগল্প না  পড়া পর্যন্ত আপনি নিস্তার পাবেন না ।

 ‘পিচ্চিকালের বন্ধু , ওদের  ছাড়া থাকবো ক্যামনে’  এইসব বলে ন্যাকামো করবেন না । ওরা আপনার জীবনটাকে  ধ্বংস করে ছাড়বে । আপনাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাবে ।

 "হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়।" (আল ফুরকানঃ ২৮-২৯)

"বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।" (আয যুখরুফঃ ৪৭)   

প্র্যাক্টিসিং মুসলিম ভাইদের (সমাজের ভাষায় ‘হুজুর’ ) সঙ্গে ওঠাবসা করুন । ইনশা আল্লাহ্‌  তাঁদের সাহচর্য আপনাকে  সহায়তা করবে নেশা কাটানোর । 

 নন মাহরামদের সঙ্গে পর্দা করুন । নন মাহরাম হচ্ছে এমন একজন যাকে বিয়ে করা জায়েজ  যেমন ছেলেদের জন্য নিজের বোন (চাচাতো, মামাতো ,খালাতো বোন না )  খালা, ফুফু, ভাগ্নী, ভাতিজি, শ্বাশুড়ী, দাদী ,নানী  (কেউ ছাড়া পরলো কি ?)  ছাড়া বাকী সবাই নন মাহরাম । মানে এরা ছাড়া অন্য  যেকোন মহিলাদের বিয়ে  করা  জায়েজ  ।

 ভাবী, চাচী, মামী, শালী, কাজিন  (মামাতো বোন, চাচাতো বোন, খালাতো বোন) এরা সবাই নন মাহরাম । এদের সঙ্গে আপনার বিয়ে জায়েজ । [১, ২,৩]

এইসব নন মাহরামদের নিয়ে লিখা চটি গল্পের বাজার সেই রকম গরম । আপনি চটিগল্পের নেশা ছাড়তে চাইলে  অবশ্যই এদের সঙ্গে পর্দা করতে হবে । তা না হলে ওদের সঙ্গে আপনার কথোপকথন , চলাফেরা, ওঠা বসা আপনাকে সবসময় চটি গল্পগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে । চটিগল্পের নেশার বিরুদ্ধে আপনি যে প্রতিরোধ বুহ্য গড়ে তুলেছেন তা  ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে।  আপনি বারবার ফিরে যাবেন চটিগল্পের কাছে ।

শয়তান সবসময় এই সম্পর্কগুলো দিয়ে ধোঁকা দেয় মানুষকে । ভুল হয়ে যাবার  (আল্লাহ্‌ না করুক) ভালো একটা সম্ভাবনা থাকে । তাছাড়া চটিগল্পের নেশার  কারণে আপনার মনে ওদের নিয়ে বাজে একটা চিন্তা সব সময় ঘোরাফেরা করে , আপনি বহু কষ্টে সেটি চাপা দিয়ে রাখেন । তাদের সঙ্গে মেলামেশা কথাবার্তায় সেই চিন্তা ফুলে ফেঁপে উঠবে ,বিস্ফোরণ ঘটতে কতক্ষন ।       

বলা যত সহজ পর্দা করাটা ততো সহজ না ।  সরবোচ্চ চেষ্টা করতে হবে পর্দা মেনে চলার ।  একান্তই সম্ভব না হলে চেষ্টা করুন ওদের সঙ্গে ইন্টারএকশান  একেবারেই  কমিয়ে  ফেলতে ।
কাজিন ,শালী, ভাবী, মেয়ে ক্লাসমেট গল্প করতে আসলে গোমড়া মুখে থাকুন, হুঁ , হ্যাঁ তেই কাজ সেরে ফেলুন । দেখবেন আস্তে আস্তে ওরা দূরে সরে যাবে । আমার জানা সবচেয় ভালো টেকনিক হচ্ছে – হুজুর হয়ে যাওয়া । দাঁড়ি ছেড়ে দিন , মাথায় টুপি পড়তে শুরু করুন , ননমাহরাম মহিলা দেখলেই চোখ নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন , দেখবেন কাজিন বা শালীরা আপনার সঙ্গে আড্ডা মারতে আসছে না , ভাবী আপনাকে দেখলেই মাথায় কাপড় দিয়ে আড়ালে চলে যাচ্ছেন ।    

 প্রথম প্রথম আপনার  মনে হতে পারে কাজিন ,ভাবী বা অন্য ননমাহরাম মহিলাদের থেকে এরকম দূরে দূরে সরে থাকলে ওরা আপনাকে  অসামাজিক ভাববে, ভাববে আপনি আলগা ভাব মারেন। পরে একসময় বুঝবেন ব্যাপারটা ঠিক উলটো – এই দূরে দূরে সরে থাকার কারনেই ওরা আপনাকে প্রচুর সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে  । ভালো ছেলের উদাহরণ দিতে গেলে আপনার নামটাই প্রথমে মনে পড়বে ওদের ।

অবসর সময়গুলো বিভিন্ন প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন নিজেকে । চটিগল্প পড়ার নেশা কুরআন পড়ার নেশায় পরিবর্তন করে ফেলুন  । টিপসটা  কঠিন হয়ে গেল কি  ?
যখনই চটিগল্প পড়তে ইচ্ছে করবে তখনই ওজু করে কুরআন খুলে ফেলুন ।  কুরআনের  ভালো কোন বাংলা বা ইংরেজি   অনুবাদ  [ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন কর্তৃক প্রকাশিত কুরআনের বাংলা অনুবাদটা বেশ প্রাঞ্জল] পড়তে শুরু করে দিন , আরবী পড়ার দরকার নেই । গল্পের বই পড়ার মতো করে পড়ে যান । দেখবেন কুরআনে মজা পাচ্ছেন , যে মজার কোন তুলনা চলে না ।     
চাইলে ইসলামী সাহিত্যের সুন্দর সুন্দর বইগুলো পড়তে পারেন । রুমীর অসাধারণ কিছু কবিতা আছে [ http://idream4life.blogspot.com/search/label/rumi ] , নাসীম হিজাসীর উপন্যাসগুলোও [ http://priyoboi.blogspot.com/2013/06/blog-post.html  , http://www.somewhereinblog.net/blog/srana28/29958825 ] বেশ চমৎকার ।
সাহাবীদের, আগের জামানার সালাফদের  জীবনী পড়তে পারেন । এই  [https://www.facebook.com/91miracle/posts/10204755908799403?hc_location=ufi ] লেকচারগুলো শুনতে পারেন । এগুলো আপনার মনে আল্লাহ্‌র ভয় ঢুকিয়ে দিবে । চটিগল্পের নেশা ইনশা আল্লাহ্‌ দূর হয়ে যাবে ।

ফেসবুকের হোমপেইজ পরিষ্কার রাখা খুব জরুরী । সবগুলো  বাজে পেইজ  আনলাইক করে দিতে হবে । উটকো মডেল, সেলিব্রেটি, নায়িকা নামের পতিতাদের ফলো করা থেকে নিজেকে সামলাতে হবে । ওদের বিভিন্ন রং ঢং  এর ছবি  দেখে  বহু কষ্টে দমিয়ে রাখা   চটিগল্প পড়ার   নেশা  বা মাস্টারবেট করার ইচ্ছে মাথা চাড়া দিতে  পারে ।  ।

আসল  জিনিসটা কি জানেন ? আসল জিনিসটা হল মনের জোর , আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) ওপর ভরসা করা আর তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া । কোন বান্দা যখন আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) দিকে এক হাত এগিয়ে যায় আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তার দিকে কয়েকহাত এগিয়ে যান । আপনি ভয়ংকর একটা পাপ থেকে নিজেকে বাঁচাতে চাচ্ছেন , শয়তানের তাবু থেকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে চাচ্ছেন । তাহলে কেন আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আপনাকে সাহায্য করবেন না ? আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা রাখুন । নাছোড়বান্দার মতো চাইতে থাকুন । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আপনাকে এই পাপ থেকে বাঁচাবেনই ।

পাওলো কোয়েলহোর একটা কথা খুব ভালো লেগেছিল – “আপনি যদি কোন কিছু অন্তর থেকে চান , তাহলে পুরো মহাবিশ্ব আপনাকে সেটি পেতে সাহায্য করবে” ।     

মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করুন । হৃদয়ের কথা শুনুন ।  অন্তর থেকে চাইলে একদিন না একদিন  চটিগল্পের নেশা দূর হবেই হবে ।
ইনশা আল্লাহ্‌ । 

(শেষ)  

পড়ুন সিরিজের প্রথম তিনটি পর্ব –
প্রথম পর্ব- https://goo.gl/afEUuO
দ্বিতীয় পর্ব - https://goo.gl/UST8Jz
তৃতীয় পর্ব- https://goo.gl/DwXTFZ

রেফারেন্স –

Monday, June 20, 2016

‘নেশা যখন চটিগল্প পড়া’ (তৃতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।


.........সবই বুঝলাম চটিগল্পের কাহিনী পুরোটাই বানানো , আমি তো শুধুই  পড়ছি ওরকম  কিছু তো করছিনা ।

চটি গল্প পড়লেন আর নিজে  মজা নিলেন  ব্যাপারটা কিন্তু এখানেই শেষ নয় , পিকচার আভি বাকি হ্যায়  । চটি গল্পের নেশা আপনাকে  তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলবে ।   আপনার দৃষ্টি শক্তি কমে যাবে ,স্মৃতি শক্তি কমে যাবে । আপনার মস্তিষ্কে বড়সড় একটা পরিবর্তন আসবে  এবং এই পরিবর্তনটা ক্ষতিকর ।  চটি গল্প পড়ার সময় আপনার মস্তিষ্ক  কিছু রাসায়নিক পদার্থ (phenylethylamine এবং  adrenaline)  নিঃসরণ করবে , স্বাভাবিক  যৌনতার সময় যে রাসায়নিক পদার্থগুলো (oxytocin এবং dopamine) নিঃসরিত হয় তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা  । এই রাসায়নিক গুলো মস্তিষ্কের সাইন্যাপস এ ঘুরে বেড়াবে  এবং কোকেন আপনার মস্তিষ্কের যেই ক্ষতিটা করবে ঠিক সেই ক্ষতিটাই করবে ।  
[পড়তে পারেনঃ মাদকের রাজ্যে- http://tinyurl.com/ht59spz ]

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি একটা এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিল  চটিগল্প, যৌনতা সম্পর্কে মহিলাদের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে দেয়  সেটার ওপর । দেখা গেল , যেসব মহিলারা চটিগল্প পড়ে তাদের  মদ্যপান করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে । তাদের একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে , অবাধ যৌনাচার, বেহায়াপনায় তারা গা ভাসিয়ে দেয় ।[১]           

অনেকেই বলেন যে , “ চটিগল্প বা পর্নমুভি হচ্ছে আমার সেক্স এডুকেশানের মাধ্যম”

 উদ্দেশ্য বেশ ভালো কিন্তু পদ্ধতিটা খুবই খারাপ । চটিগল্প বা পর্নমুভি  কখনোই সেক্স এডুকেশানের মাধ্যম হতে পারে না । আমরা প্রথম পর্বেই আলোচনা করেছিলাম চটিগল্প যৌনতা সম্পর্কে কি ভুরি ভুরি মিথ্যে পাঠকদের গলাধঃকরন করাচ্ছে । চটি গল্প নারীকে বানিয়েছে একটা সেক্স অবজেক্ট , যে কখনো না বলে না , যে যেকোন উপায়েই যেকোন সময়  যেকোন পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য প্রস্তুত । চটিগল্প  পুরুষকে বানিয়েছে একটা সেক্স মেশিন যে ঘন্টার পর ঘন্টা কর্মক্ষম ।  চটিগল্পে আসক্ত পাঠক পাঠিকা এই ভুল ধারনা গুলো নিয়ে  দিন পার করেন । বিয়ের পরে শুরু হয় ঝামেলা ।

চটিগল্প থেকে সেক্স এডুকেশান পাওয়া  স্ত্রী ভাবেন , “আরে  আমার স্বামীতো  ওরকম ম্যানলি না!  ওইদিকে স্বামী ভাবেন , “যা শালা! বউ দেখি অন্যরকম” । এভাবে একজন ,  অপরজনের ওপর অসুন্তুষ্ট হন ,  শারীরিক দুরত্ব থেকে মানসিক দুরত্ব বাড়ে । একসময় ডিভোর্সও হয়ে যায়। স্বামী স্ত্রীকে জোর করেন চটিগল্পের নায়িকাদের মতো আচরন করতে এমন ঘটনাও অনেক । স্ত্রী বেচারী নিজ স্বামীর হাতেই ধর্ষিত হয়  , নীরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছু করার থাকে না  ।
বাবমার সম্পর্কের টানাপড়েনর  প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপরে । তাদের সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠা বাঁধাপ্রাপ্ত হয় ।
[স্বামী স্ত্রীর  সম্পর্কে পর্নমুভি কি ভয়ংকর জটিলতা সৃষ্টি করে তা নিয়ে খুব পছন্দের একটা লিখা ‘১০৮ টি নীল পদ্ম’ http://tinyurl.com/guupnfo   । পড়ার অনুরোধ রইলো । পর্নমুভির জায়গায় শুধু চটিগল্প বসিয়ে  নিয়ে পড়ে ফেলবেন । ইনশা আল্লাহ্‌ স্বচ্ছ একটা ধারনা পাবেন কীভাবে চটিগল্প স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি করে ]             

টেড বান্ডি নামে কুখ্যাত  একটা লোক থাকতো আমেরিকাতে । লোকটা সিরিয়াল কিলার ছিল , মেয়েদের কিডন্যাপ করত , তারপর  রেপ  করে মেরে ফেলত [পড়ুন ‘সিরিয়াল কিলার’ সিরিজি -  http://tinyurl.com/hr6hzrj , http://tinyurl.com/zgo4dm2 ] ।
ফাঁসিতে ঝোলার  পূর্বে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে বান্ডি বলেছিল,  সে  ছোট বেলায়  বাড়ীর বাইরের ডাস্টবিনে  কিছু চটিগল্পের বই খুঁজে পায় । সেদিনই তার প্রথম পরিচয় ঘটে অশ্লীল এই জগতটার সঙ্গে । তারপর ধীরে ধীরে সে হার্ডকোর পর্নমুভিতে আসক্ত হয়ে যায় । এই আসক্তিই তার মানসিকতা নষ্ট করে দেয় , এই আসক্তিই তার মধ্যে কামের যে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাতে পুড়ে  ছারখার হয়ে যায় প্রায় শখানেক তরুনীর জীবন ।   

ছোট বাচ্চাদের খুব আগ্রহ থাকে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটগুলোর প্রতি । সুযোগ পেলেই ঘেঁটে দেখে ।  আপনার বাসায় ছোট বাচ্চা আছে বা বেড়াতে এসেছে । সে আবদার  ধরলো  , “ তোমার ফোন দাও তো একটু , গেম খেলব’। আপনি ফোন দিয়ে দিলেন তার হাতে । সে ঘাঁটতে ঘাঁটতে রাতের বেলা পড়ার জন্য আপনি যে চটিগল্পের পিডিএফ গুলো নামিয়ে ছিলেন সেগুলো পেয়ে গেল , অথবা আপনার ব্রাউজার  এর হিস্টোরি থেকে কোন চটি গল্পের সাইটে ঢুকে গেল ।আপনার কারণে সে পরিচিত হয়ে গেল চটিগল্পে ।  আপনি কি গ্যারান্টি দিতে পারবেন এই বাচ্চাটার চটিগল্পের নেশা হবে না? পর্ন মুভিতে সে আসক্ত হবে না ? বড় হয়ে সে আরেকটা   টেড বান্ডি হবে  না  ?
চটি গল্পের নেশা বা পর্ন আসক্তি তার নিজের জীবনতো ধ্বংস করবেই , তার স্ত্রীর জীবনও নষ্ট করবে ,  সংসার তছনছ করে দিবে , তার  ছেলেমেয়ের  ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে । তার এতবড় ক্ষতি করার কোন অধিকার নেই আপনার ।    

কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন জীবন নষ্টকারী চটি গল্পের নেশা ? কিভাবেই’বা  ছোট ছোট বাচ্চাদের রক্ষা করবেন চটিগল্পের  বিষধর ছোবল  থেকে ?    
ইনশা আল্লাহ্‌  , সবকিছু আলোচনা করা হবে পরবর্তী  পর্বে   ।

প্রথম দুই পর্ব পড়ুন এখানে –

প্রথম পর্ব- http://tinyurl.com/ztlblr4 
 দ্বিতীয় পর্ব- http://tinyurl.com/hv8yfm5  

রেফারেন্সঃ


        





Friday, June 10, 2016

নেশা যখন চটিগল্প পড়া (দ্বিতীয় পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।






.........সবই বুঝলাম চটিগল্পের কাহিনী পুরোটাই বানানো , গাঁজাখুরি কিন্তু আমার তো মজা লাগে ,  আর আমি তো শুধুই  পড়ছি ওরকম  কিছু তো করছিনা ।

ভাই দেখেন,  যেকোন  পাপ কাজেই কিন্তু একটা সাময়িক মজা আছে । পাপ কাজটাই এমন যে আপনি সাময়িক একটা মজা পাবেন ।  সিগারেট খাওয়া হারাম , মদ খাওয়া হারাম কিন্তু এগুলোতে  মজা আছে না ? চটিগুল্পের ব্যাপারটাও সেরকম আপনি পড়বেন আর সাময়িক মজাও পাবেন কিন্তু দিনশেষে এটা কিন্তু পাপই ।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বলেছেন, “জেনার কাছেও যেয়ো না । এটি একটি লজ্জাজনক ও নিকৃষ্ট কর্ম যা আরো  নিকৃষ্ট কর্মের পথ খুলে দেয় ।
[সূরা ১৭,আয়াত ৩২ ]
তিনি কিন্তু বলেননি যে জেনা করো না , তিনি বলেছেন জেনার কাছেও যেয়ো না – এমন কিছু থেকে দূরে থাকো যা তোমাকে জেনার দিকে নিয়ে যেতে পারে ।
চটি গল্প পড়ার অভ্যাস আপনাকে জেনার দিকে নিয়ে যাবে কিনা  সেটা পরে আলোচনার ব্যাপার ,আসল পয়েন্টটা হচ্ছে চটিগল্প পড়া নিজেই জেনার অন্তর্ভুক্ত।


“আদম সন্তানের উপর জেনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা সে পাবেই । চোখের জেনা হল নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি দৃষ্টিপাত করা , দু’কানের জেনা হল শ্রবন করা , রসনার জেনা হল কথোপকথন, হাতের জেনা হল স্পর্শ করা, পায়ের জেনা হল হেঁটে যাওয়া , অন্তরের জেনা হল আকাঙ্ক্ষা এবং কামনা করা ।
[সহীহ বুখারী ৮;৭৭;৬০৯]

তাহলে এবার হিসেব করুন কয় রকমের জেনা  আপনি  করলেন ।
প্রথমত হাতের জেনা , হাত দিয়ে  কিবোর্ড চেপে সার্চ করে করে চটিগল্প বের করলেন । দ্বিতীয়ত চোখের জেনা -  চোখ দিয়ে নিষিদ্ধ জিনিস দেখলেন এবং পড়লেন । তৃতীয়ত অন্তরের জেনা – চটিগল্পে পড়া জিনিস গুলো চিন্তা করলেন এবং ভাবলেন ইশ! একবার যদি হত এরকম ।


এবার একটা হাদীস শোনাই । খুব ভয়ংকর রকমের হাদীস ।  
রাসুল ﷺ বলেছেন,“আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী–পুরুষরা চিৎকার করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল ।


আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা ?
জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ  এরা হল, জেনাকারী  নারী ও পুরুষ ।
 [সহীহ আল–বুখারী]


ভাই , জাহান্নামের আগুন এতোটাই ভয়াবহ সেখানে কেউ যদি এক সেকেন্ড না এক মাইক্রো সেকেন্ড বা তারচেয়েও অনেক কম সময় থাকে তাহলে সে দুনিয়ার সকল আনন্দ , সকল মজা , আরাম আয়েশ ভুলে যাবে । হয়তো সে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি ছিল , জীবনেও কোন দুঃখ কষ্টের মুখোমুখি হয়নি , রাজার হালে থেকেছে , যা মন চায়  খেয়েছে,  ইচ্ছেমত পান করেছে । কিন্তু জাহান্নামের এক মুহূর্তই তাকে দুনিয়ার সব সুখস্মৃতি ভুলিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট । চটিগল্প পড়ে মজা পাচ্ছেন কিছুটা সময়ের জন্য কিন্তু একটা বিশাল পাপের পাহাড় তৈরি করছেন    আস্তে আস্তে  আর আপনাকে আপ্যায়ন করার জন্য  উত্তপ্ত করা হচ্ছে জাহান্নামের আগুন । বাঁচান ভাই নিজেকে , জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান । কোনমতেই  সহ্য করা সম্ভব না ঐ আগুন ।

চটিগল্পের নেশা আপনাকে একদিন না একদিন মাস্টারবেশন আর পর্ন আসক্তির দিকে ঠেলে নিয়ে যাবেই । উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ভেতরটাকে ঠান্ডা করতে হবে না ? তাছাড়া শুধু পড়তে আর কতদিন ভালো লাগবে ?  গল্পে পড়া জিনিসগুলো বাস্তবে দেখতে মন চাইবে না ?

সাধারণত  চটিগল্পের নেশা  দিয়ে অশ্লীল অসভ্য  ভয়ংকর এই  জগতটাতে মানুষের প্রবেশ ঘটে,মাস্টারবেশন পর্ন আসক্তির বেড়া ডিঙ্গিয়ে লিটনের ফ্ল্যাটে যেয়ে  তার পথচলা শেষ হয় । ভুল বললাম বোধহয় লিটনের ফ্ল্যাটে না  জাহান্নামের আগুনের গর্তে যেয়ে পথচলা শেষ হয় ।

একটা গল্প বলি । গল্প হলেও সত্যি ।  
২০১০ সালে এস. এস. সি.   পরীক্ষার রেজাল্টের পরে বাবা মার ইচ্ছে হল ঢাকার কোন কলেজে ছেলেকে  ভর্তি করানোর ।  কলেজের ফর্ম তোলার জন্য একদিন কয়েকজন বন্ধু বান্ধব মিলে ঢাকার ট্রেনে চেপে বসলাম । অনেক  প্রথমের সূচনা ছিল সেই দিনটা আমার জন্য । প্রথমবারের মতো ট্রেনে চড়া , প্রথমবারের মতো মফঃস্বল শহর ছেড়ে  এতদূরের শহর ঢাকা যাওয়া , প্রথমবারের মতো   ফুটপাতে ময়লা ন্যাকড়া জড়িয়ে কুকুরের সঙ্গে জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকা পথশিশু দেখা , রাস্তার পাশে , রেললাইনের ধারের  বস্তিতে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে বেঁচে থাকা মানুষদের দেখা । খুব খারাপ লেগেছিল সেদিন । এক ছুটির সকালে হোস্টেলের পেছনে আশীপিতর এক বৃদ্ধা লাঠিতে ভর  করে বহু কষ্টে কাগজ কুড়াচ্ছিল । কেন সে এত কষ্ট করে কাগজ কুড়াচ্ছে জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল , “বাবা! সকালের নাস্তা করব কিন্তু কোন টাকা নেই আমার কাছে । তাই , কাগজ কুড়াচ্ছি , ভাঙ্গাড়ীর দোকানে বিক্রী করে ঐ টাকা দিয়ে কিছু কিনে খাব” ।

কেঁদেছিলাম সেদিন । নীরবে , ডুকরে ডুকরে । ঢাকায় আসার পর মাস ঘুরে এক  বছর শেষ  হয়ে  গেল ।  কলেজে যাবার পথেই প্রতিদিন দেখতাম   ডাস্টবিনের পাশের ময়লাতে টোকাইরা শুয়ে আছে ,  আগের মতো খারাপ লাগতো না ।  আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে গেল । মনে হতো ঠিকই তো আছে , টোকাইরাতো রাস্তাতেই শুয়ে থাকবে ।  বস্তির মানুষের করুন দশা দেখেও আমার আর মন খারাপ হতো না , কান্না কাটি করা তো বহু দূরের কথা ।
                                          
মানুষের সাইকোলজি কিন্তু এরকমই । কোন অস্বাভাবিক কিছু প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখতে থাকলে সে সেটাকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেয় ।

ভাই প্রথম প্রথম আপনি যখন চটিগল্প পড়া শুরু করেছিলেন তখন  মা, বোন , খালা , ভাবী , চাচী , মামী , কাজিন ,  পাশের বাসার আন্টি , টিচার, কাজের মেয়েদের নিয়ে লিখা গল্প গুলো পড়ে আপনার  মনে হত না,   গল্প গুলো কত  জঘন্য  ? কিন্তু আস্তে আস্তে আপনার কাছে সেটাই স্বাভাবিক হয়ে গেল । আপনি তাদেরকে নিয়ে ফ্যান্টাসীতে ভোগা শুরু করলেন , তাদের বিভিন্ন আচরনের অন্য অর্থ করলেন আপনি ,   শেয়ালের চোখে দেখতে শুরু করলেন তাদের,  বশ করার ফন্দি আঁটলেন ,  হয়তো সুজোগও খুঁজলেন ,তাই না ? অস্বীকার করবেন না । স্বভাবতই   বাঙ্গালী ছেলেদের  চিন্তাভাবনা   কতগুলো  নিকটাত্মীয়াকে (ভাবী , শালী , কাজিন  ) নিয়ে  একটু অন্যরকম হয় । চটিগল্পে  তাদের  সেই অবাধ্য চিন্তাভাবনায় রঙ চং লাগিয়ে একেবারে তারা ঠিক যেমন  চাই তেমন ভাবেই উপস্থাপন করা হয় ।        

চটি  গল্পের  প্রধান  সমস্যাটাই এখানে । আপনাকে সে যৌনতা সম্পর্কে একগাদা মিথ্যে তথ্য গুলে খাওয়াবে এবং আপনি সেগুলো আস্তে আস্তে সত্যি বলে ধরে নিবেন- সত্যিই বোধহয় তারা আমার কাছ থেকে কিছু চাই , আমার সঙ্গে বিছানায় যেতে আগ্রহী ইত্যাদি ইত্যাদি ।  আপনি শুধু এখানেই বসে থাকবেন না , মেয়ে শিকারের সেই  টেকনিক গুলো  নিজের  জীবনেও এপ্লাই করার চেষ্টা করবেন ।  
বিকৃত চিন্তার গল্প গুলো পড়ে আপনি নিজের ভেতরে ক্রমাগত যে ‘কামের’ আগ্নেয়গিরি তৈরি করছেন তার  অগ্নুৎপাত কি কখনো হবে না ভেবেছেন ?  অগ্নুৎপাতের পরে কি হবে চিন্তা করেছেন কখনো ? কত ঘর ভাঙবে , সম্পর্ক আর জীবন নষ্ট হবে ? আপনার বাবা মা’র কথা একবার চিন্তা করুন । কি পরিমাণ লজ্জিত , অপমানিত তারা হবেন !

আপনি হয়তো আমার কথা এখন হেসেই উড়িয়ে দিবেন  কিন্তু বিশ্বাস করুন আপনার চটিগল্পের নেশা আপনাকে ধর্ষক , শিশু নির্যাতনকারী এমনকি সমকামিও (আঊজুবিল্লাহ) বানিয়ে ফেলতে পারে  , পতিতার কাছেও যাওয়াও আশ্চর্যের কিছু না  । চটিগল্প পড়ে হরমোন ক্ষরণে উত্তেজিত হয়ে ওঠা আপনি শান্ত হয়ে  হওয়ার জন্য হাতের কাছে যেটা আছে সেটা দিয়েই কাজ সারতে চাইবেন । কেউই আপনার লালসা থেকে নিরাপদ  থাকবে না । 

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ .........

পড়ুনঃ
১) “নেশা যখন চটিগল্প পড়া” সিরিজের প্রথম পর্ব- http://lostmodesty.blogspot.com/2016/05/blog-post_23.html


        






Sunday, May 22, 2016

“নেশা যখন চটি গল্প পড়া”



প্রথম পর্ব- “মিথ্যে কথার রাজ্যে”

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

ভার্সিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে পড়তাম তখন । ছুটিতে বাসায় গিয়েছিলাম ।
   রাতের ট্রেনে বাসা থেকে হলে  ফিরছি ।একা একা নাইট জার্নি করে  যাচ্ছি তাই আব্বু , আপু আর আম্মু বেশ টেনশান করছিল  । ফোন দিয়ে আমাকে  অস্থির করে তুলছিল ।  ঘুমাতে পারছিলনা ।
ট্রেন ছাড়ল রাত  ১১ টার অনেক পরে ।আম্মু ১১টার অনেক আগেই ঘুমিয়ে যায় কিন্তু সেদিন জেগে ছিল ,আম্মুকে ফোন করলাম  । আম্মু ঘুমালো ।

“ভাই
, আপনার ফোন থেকে একটা কল করা যাবে”?
ঘুরে তাকালাম
 আমার পাশের সিটে বসা প্রশ্নকারীর দিকে । ২৪/২৫ বছরের মতো বয়স। নিম্নবিত্ত
কিছুটা অবাক হয়ে
   বিরক্তি মাখা সুরেই বললাম, “হ্যাঁ করেন” ।
আমার বিরক্তিটা সহজেই টের পেয়ে গেল সে । কৈফিয়ত দেবার
  মতো করে   বলল ,  “ভাই আমার ফোন টা হারায়ে গেসে গতকাল ।বুড়া মা বাসায় চিন্তা করছে । ফোন না করলে আমার মা টা ঘুমাতে পারবেনা”।

সে আমার ফোন থেকে তার পাশের বাসায় ফোন করল ( তার মায়েরও ফোন নেই)।
 তার মাকে জানাতে বললো সে ভালোমতো ট্রেনে উঠেছে ।


 
এসি রুমে আরামদায়ক বিছানায় শোয়া মা সন্তানের জন্য যেরকম দুশ্চিন্তায় করে,ফুটপাতে শোয়া মা তার সন্তানের জন্য সেইরকম দুশ্চিন্তাই করে ।মা দের সন্তানের প্রতি ভালোবাসাই আর কোন ব্যাপার নেই, কোন ফরমানলিন নেই । আমরা  মায়ের এই অপার্থিব ভালোবাসা, বোনের  স্নেহের প্রতিদান  দিচ্ছি   তাঁদের নিয়ে লিখা চটি গল্প পড়ে ! আমরা  অনলাইনের জগতটাকে এমন অসুস্থ বানিয়ে ছেড়েছি  যে বাংলায়  টাইপ করে  গুগলে   কিছু খুঁজতে কোন সুস্থ লোকের প্রবৃত্তি হয় না   । 


একটা বিশাল প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এবং উঠছে যারা প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হবার আগেই  চরম অশ্লীলতার জগতটার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে ,   যারা মা ,বোন ,কাজিন,ভাবী ,খালা, চাচী,মামী এদের নিয়ে লিখা  চটি গল্প পড়ে আর  রাত দিন এদের নিয়ে  সেক্স ফ্যান্টাসীতে ভোগে ।
চটি গল্প, পর্নমুভির চেয়েও ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে এর পাঠকদের ওপর । বই/লিখা  মানুষের মনোজগতকে প্রভাবিত করার জন্য  খুবই শক্তিশালী একটা মাধ্যম ।  কুরআনের দিকে আমরা তাকাতে পারি   । আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) এই পবিত্র বই কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং করছে । পাথরের চেয়েও কঠিন মনের মানুষ শিশুর মতো অঝোরে কাঁদে কুরআন পড়ে , এই কুরআন পড়েই আল্লাহ্‌র জন্য মানুষ তার জীবনটা বিলিয়ে দিতেও কুন্ঠাবোধ করে না ।

চটি গল্প পড়ার সময়
  পাঠক অনেককক্ষন  ধরে বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় পায় , ইচ্ছে হলেই পড়া বন্ধ করে সেক্স ফ্যান্টাসীতে ডুবে যায় । কিন্তু পর্ন মুভিতে তার এ সুযোগ থাকে সীমিত । ঘটনার দ্রুত পট পরিবর্তন হয় , চিন্তা করার খুব একটা সময় থাকে না ।  কোন বিষয়ের ওপর  ভিডিও দেখা বা লেকচার শোনার চেয়ে সেই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে সেটা বেশি সময় ধরে মাথায় থাকে । চটি গল্পে পড়া জিনিস গুলো এর পাঠকের মস্তিষ্কে খুব বেশি সময়ের  জন্য পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসে । সারাক্ষন মাথার মধ্যে কৃমির মতো কিলবিল করতে থাকে গল্পের ঘটনাগুলো । সহজেই  রেহাই পাওয়া  যায়না  বিকৃত অবাধ্য  চিন্তাগুলোর হাত থেকে ।  

আমাদের এই সিরিজে ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা আলোচনা করব  ভয়ংকর এই আসক্তি নিয়ে । প্রথমে ইনশা আল্লাহ্‌  আমরা চেষ্টা করব চটি গল্পের ধাপ্পাবাজির  দিকটা তুলে ধরার , তারপর আলোচনা করা হবে এর ভয়াবহতা  সম্পর্কে এবং সর্বশেষে  ইনশা আল্লাহ্‌ কিছু  টিপস দেওয়া হবে চটি গল্পের আসক্তি  দূর করার জন্য ।

অনেকগুলো মিথ্যে কথা –

১) ভাই, চটি গল্পে আপনি  যা পড়ছেন বা পড়েছেন তার আগাগোড়া  ষোল  আনাই মিথ্যে । একেবারে বানানো গল্প । কারো সাথে কখনো ওরকম কিছু হয়নি । কেউ ওরকম করে না । কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে ঐগুলো করা তো দূরের কথা চিন্তা করাও সম্ভব নয় । পেটে লাল নীল পানি না পড়লে বা গাঞ্জার কল্কিতে দু’টান মেরে না আসলে ঐরকম গালগল্প লিখা সম্ভব না ।

২) অন্তরঙ্গতার পদ্ধতি, সময় , ফ্রিকোয়েন্সি ঐগুলাও অবাস্তব । কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে ওদের মতো করে এত সময় ধরে বা এত ঘন ঘন অন্তরঙ্গ থাকা সম্ভব নয় ।

৩) নারী বা পুরুষের প্রাইভেট পার্টস এর যে বর্ণনা আপনি  পড়ছেন, তার সবকিছুই ঢাহা মিথ্যে , অতিরঞ্জিত ।

৪)  কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে অন্তরঙ্গতার সময় এত নির্লজ্জ হওয়া সম্ভব না । কেউ ওরকম খিস্তি খেউর করেনা , পশুর মতো চিৎকার চেঁচামেচি করে না ।

৫) চটি গল্পে মামী , ভাবী, চাচী , খালা , কাজিন , বোন , মা (লিখতে খুবই অস্বস্তি লাগছে, আল্লাহ্‌ আমাদের এইসব জঘন্য কাজ থেকে রক্ষা করুক , যারা এসব লিখে  আল্লাহ্‌ তাদের হেদায়াত দিক অথবা ধ্বংস করে দিক)  বান্ধবীদের সঙ্গে লীলাখেলার যে কাহিনী আপনি পড়ছেন এবং তার অনেকটা সত্য বলে ধরে নিয়েছেন তার পুরোটাই মিথ্যে ।  পাশের বাসার আন্টি , কাজের মেয়ে , টিচারদের নিয়ে যে গল্পগুলো পড়েছেন সেগুলোও ভুয়া   ।

 বটমলাইনটা হল - চটি গল্প গুলো বের হয় সাধারণত প্রচন্ড সেক্স পারভারট  একদল মানুষের (আসলে জানোয়ার , মানুষ না) গাঞ্জার ধোঁয়ার আচ্ছন্ন বিকৃত মস্তিষ্ক থেকে । নিজের কিছু করার মুরোদ নেই , অথচ মনে প্রচন্ড খিদে - কি আর করবে  বেচারারা !  তাই মনের জঘন্য চিন্তা গুলো লিখে আর তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে । কিন্তু এগুলোকেই ধ্রুব সত্যি মনে করে বেড়ে উঠছে একটা জেনারেশানের ছেলেমেয়ে । কোন দিকে কি যাচ্ছে আমাদের সমাজটা তা কি ভাবার সময় আসেনি ?

......... চলবে ইনশাআল্লাহ্‌