Saturday, December 10, 2016

মৃত্যু? দুই সেকেন্ড দূরে!



সাই সাই করে পঙ্খীরাজ ঘোড়ার মতো বাসটা উড়ে চলছিল কালো পিচে মোড়ানো প্রশস্ত রাজপথের বুকের ওপর দিয়ে। জানালার পাশের সিটে বসে ছিলাম। বাতাসে উড়ছিল মাথার কোঁকড়া চুল । পথের পাশের বাবলার গাছ,ভাঁটফুল, নাম না জানা জংলী লতার নীল নীল ফুল, আর ১১ কেভি ইলেক্ট্রিক লাইনের পুল, সব কিছু নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছিল চোখের সামনে থেকে। বাসের ভেতরে নীরবতা  জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। একটু আগেও বেশ হইচই হচ্ছিল। আমার আশে পাশে বসে ছিল পনের ষোল বছর বয়সের বেশ কয়েকজন কিশোর । কেউ গল্প করছিল, কেউ উদাস হয়ে বাইরে চেয়ে ছিল, কেউ কেউ সিটে বা  এরওর ঘাড়ে মাথা রেখে মুখ হা করে ঘুমাচ্ছিল। শেষের ছেলেগুলো বেশ ক্লান্ত। একটু আগেও হাই ভলিউমেবুরখা পড়া মেয়ে পাগল করেছেটাইপ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জটলা বেঁধে কি নাচটাই না এরা নাচছিল। এরকম নাচ দেখার সৌভাগ্য (না দুর্ভাগ্য?) আগে কখনো হয়নি। তবে ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলে আফ্রিকান গহীন অরণ্যের কিছু জংলীদের নাচ দেখেছিলাম। সেই নাচের সাথে এই ছেলেগুলোর নাচের বেশ মিল আছে! যাই হোক ছেলেগুলো আমার বন্ধু, আমরা সবাই একি ক্লাসে পড়তাম। স্কুল থেকে আমরা বনভোজনে যাচ্ছিলাম মুজিবনগর । বসন্তের এক অসহ্য সুন্দর দিন ছিল সেটি । 

সামনের সিটগুলোতে স্যারেরা বসেছিলেন। তাদের ঠিক পেছনেই জটলা বেঁধে বসে ছিল ছেলেদের এবং মেয়েদের কয়েকজন। বাস থেকে নামার পরে বেশ কয়েকজনের মুখে শুনলাম এই ছেলেমেয়েগুলো বাসের মধ্যে প্রায় পুরোটা রাস্তা একসাথে মোবাইলে পর্নদেখেছে!
প্রচন্ড রকমের বিস্মিত হয়ে ছিলাম সেদিন ।


এরপর আস্তে আস্তে এরকম অনেক ঘটনা দেখে বিস্মিত হতে হতে আমার বিস্মিত হবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেল। আমি জানলাম আমার স্কুলের সবচেয়ে সেরা বন্ধু ভয়ংকর রকমের পর্ন আসক্ত। কলেজে আমার পাশে বসা ছেলেটার হার্ডডিস্ক ভর্তি পর্ন। পেছনের বেঞ্চের ছেলেটা সারারাত মোবাইলে পর্নদেখে আর ক্লাসে এসে ঘুমায়। কাছের একজন বন্ধু, খুবই ভদ্র,লাজুক ছেলে, পর্ন আসক্তির কারণে প্রচন্ড নির্লজ্জ হয়ে উঠলো। আমি দেখলাম  ক্লাস রুমের দরজা আটকে স্কুলের বন্ধুরা পর্নদেখছে, কলেজের বন্ধুরা মোবাইলের লাউডস্পিকারে পর্ন ছেড়ে দিয়ে ম্যাডামকে বিরক্ত করছে, ম্যাডামদের নিয়ে রসালো আলাপে পার করে দিচ্ছে টিফিনের সময়টা। ফেসবুকে কুৎসিত ইঙ্গিত করে ট্রল বানাচ্ছে। ভার্সিটির র্যাগিং এ নবাগত  ছাত্রদের পর্নস্টারদের অনুকরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।       

পাশের রুমের ভদ্র ছেলেটাও যখন কলেজের ব্যাগে চটিগল্পের বই নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, নামাজে যাওয়া ছেলেটাও যখন রুমমেটের সঙ্গে পর্নস্টারদের নিয়ে মজা করে, তখন আমি কি আর বিস্মিত হব?

খুব বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম ২০১১ সালের রমাদানে। লাইলাতুল কদরের রাতে গ্রামের মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ পড়ার মাঝে বিরতিতে খেয়াল করলাম বারো তের বছরের কিছু ছেলে মসজিদের বাইরের উঠোনের আমগাছের নিচে বসে জটলা বেঁধে মোবাইলে পর্ন দেখছে। হাতে নাতে ধরা।
ইয়া আল্লাহ্! রমাদান মাসে! লাইলাতুল ক্বদরের রাতে!
লা হাওলা ওয়ালা কুআতা ইল্লাহ বিল্লাহ!

ভার্সিটিতে আমি নিজে অনেক অনুনয় বিনয় করে কয়েকজনকে রাজি করাতে পেরেছিলাম হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করতে। এদের কারো কারো হার্ডডিস্কে শত গিগাবাইটের ওপরে পর্ন ছিল!
আমরা যখন বেড়ে উঠেছি তখনো বাংলাদেশে মোবাইল, ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিলনা। তখনই এরকম ভয়ংকর অবস্থা ছিল!
এখন কী অবস্থা হতে পারে চিন্তা করে দেখুন একবার!

পর্ন আসক্তির ওপরে বাংলাদেশে তেমন কোন গবেষণা হয়নি বললেই চলে। ২০১২ সালে কয়েকটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর কিছু ছাত্রছাত্রীর উপর চালানো একটি জরিপে দেখা যায় শতকরা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর নিজের ফোন আছে। বাকিরা বাবামার ফোন ব্যবহার করে। এদের মধ্যে-
* ৮২ শতাংশ সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্ন দেখে।
* ক্লাসে বসে পর্ন দেখে ৬২ শতাংশ।
* ৭৮ শতাংশ গড়ে ৮ ঘন্টা মোবাইলে ব্যয় করে।
* ৪৩ শতাংশ প্রেম করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যবহার করে।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, বেসরকারী এক হিসাবে দেখা গেছে ফটোকপি আর মোবাইলে ফোনে গান/রিংটোন ভরে দেয়ার দোকানগুলো থেকে দেশে দৈনিক ২.৫ কোটি টাকার পর্ন বিক্রি হচ্ছে।[1]

এছাড়াও বাংলাদেশে থেকে এক মাসে গুগলে “পর্ন” শব্দটা সার্চ করা হয়েছে ০.৮ মিলিয়ন বার এরও বেশী। বিশ্বব্যাপী সংখ্যাটা হচ্ছে ৬১১ মিলিয়ন বার! “সেক্স” শব্দটা বাংলাদেশ থেকে সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন বার। বিশ্বব্যাপী করা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন বার।  অন্যান্য পর্নোগ্রাফিক শব্দের ক্ষেত্রে অবস্থাও অনেকটা এমন।

৩০ জুলাই ২০১৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) পর্নোগ্রাফির উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকার সাইবার ক্যাফেগুলো থেকে প্রতি মাসে বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা যে পরিমাণ পর্ন ডাউনলোড করে তার মূল্য ৩ কোটি টাকার মতো।[2]
 
“মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন” পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পর্ন ভিডিওতে আসক্ত রাজধানীতে ৭৭ শতাংশ কিশোর। অবস্থার ভয়াবহতা ফুটে ওঠে যমুনা টিভির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও।[3]
কোন বাবা-মা’ ই বিশ্বাস করতে চাননা তাদের সন্তান পর্ন দেখার মতো এতোটা নিচে নামতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। সিকিউরিটি টেকনোলজি কোম্পানি Bitdefender এর গবেষনা অনুযায়ী, পর্ন সাইটে যাতায়াত করা প্রতি দশ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স দশ বছরের নিচে। আর এই দুধের বাচ্চা গুলো রেইপ পর্ন  জাতীয় জঘন্য জঘন্য সব ক্যাটাগরির পর্ন দেখছে।[4]
লা হাউলা কুউ'আতা ইল্লাহ বিল্লাহ!

NSPCC ChildLine এর  সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ১০ জন এই ভেবে ভীত যে, তারা পর্ণে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছে চাইলেও আর পর্ন দেখা বন্ধ করতে পারবে না।[5]

২০০৮ সালে ১৪-১৭ বছর বয়সীদের ওপরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, এক তৃতীয়াংশেরও বেশী কিশোরেরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও পর্ন দেখে।[6]

পর্নমুভির সঙ্গে প্রথমবার পরিচিত হবার গড় বয়স ১১! সবচেয়ে বেশি পর্ন আসক্ত ১২-১৭ বছর বয়সীরাই![7] 
  
শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এনজিও Childnet এর সিইও, এবং UK Safer Internet Centre এর একজন ডাইরেক্টর উইল গার্ডনার মন্তব্য করেন, “মা বাবার জন্য এটা বিশ্বাস করা খুবই কষ্টকর যে তাদের ছেলেমেয়েরা পর্ন দেখে । কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখনকার সময়ে পর্নোগ্রাফি খুবই সহজলভ্য এবং বাচ্চারা খুবই অল্প বয়সেই পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচিত হয়ে যায়”।[8]  

আঁতকে ওঠার মতো আরো অনেক জরিপ আছে । সব লিখতে গেলে ঢাউস বই হয়ে যাবে ।
আপনি, আপনার ছোটভাই/বোন বা সন্তানকে যতই নিরীহ,ভদ্র আর ল্যাদা গ্যাদা কাঁচু মনে করেন না নিশ্চিত থাকুন সে একবার না একবার হলেও পর্ন দেখে ফেলেছে এবং অচিরেই তার পর্ন আসক্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । সর্বনাশ  হয়ে যাবার আগেই সাবধান হোন । দাঁত থাকতেই দাঁতের মূল্য বুঝুন । না হলে পরে পস্তাতে হবে ।

পর্নআসক্তি আপনার সন্তানের জন্য কতটা বিপদজনক তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে “ফ্যান্টাসি কিংডম” সিরিজে। পড়ুন এখানে-
প্রথম কিস্তি- https://goo.gl/zwcD4I
দ্বিতীয় কিস্তি- https://goo.gl/2PbcAX 
তৃতীয় কিস্তি- http://bit.ly/2Duu82k  



রেফারেন্সঃ

[1] Porn addiction of bangladeshi school going children’s (an investigative tv report) -  http://bit.ly/2c0TR1p
[2] Let’s talk about porn - https://goo.gl/dC5ymX
[3]https://www.youtube.com/watch?v=jUxXQB8PW7s
[4] One In 10 Visitors To Graphic Porn Sites Are Under 10 Years Old- http://bit.ly/2fdBY1a
[5] Pornography addiction worryfor tenth of 12 to 13-year-olds - https://goo.gl/EWVkvZ 
[6] Bev Betkowski, “1 in 3 boys heavy porn users, study shows,” Eurekalert.org, Feb. 23, 2007. http://www.eurekalert.org/pub_releases/2007-02/uoa-oit022307.php (accessed Dec. 9, 2013).
[7] How Hardcore Internet Porn Is Sexually Damaging Teens- https://goo.gl/UFNxqi
[8] Here’s The Shocking Percentage Of 12-Year-Olds Who Admit They Struggle With Porn - http://bit.ly/1S8hnvQ

Tuesday, December 6, 2016

প্রেসার কুকার


বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম 

গভীর হাওয়ার রাত ছিল সেদিন  গভীর হাওয়ার রাত   আকাশে বিশাল একটা
  রুপালী চাঁদ উঠেছিল, কাসার থালার মত গোল  এতবড় চাঁদ আমি আমার জীবনে কখনো  দেখিনি  চাঁদের আলো ধুয়ে দিচ্ছিল চারপাশটাকে ভার্সিটির  মসজিদটা এমনিতেই সুন্দর  তারওপর এই অপার্থিব  চাঁদের আলোয় লেকের পাশ থেকে মসজিদটার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল আমি জান্নাতের কোন প্রাসাদ দেখছি 

গভীর হাওয়া পামগাছের শাখাগুলোতে দাপাদাপি করছিল  বাতাস আর পাম/নারিকেল গাছের কম্বিনেশন আমাকে চিরকাল উদাস করে তোলে   এই রকম পরিবেশে যদি  নিকাবের ভেতর থেকে কুচকুচে কালো একজোড়া চোখ আমার মনের জানালায় উঁকি দিয়ে যায় তাহলে আমার আর কি দোষ ?   হেটার্‌সরা আবার বলবে আমি বিয়ে পাগল  !

ভার্সিটিতে থাকতে এরকম বেশ কিছু  উত্থাল পাতাল   জোস্ন্যা রাত চুটিয়ে উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলেন আল্লাহ্‌ সুবঃ  সেই রাত গুলো কোনদিন ভুলতে পারবো কিনা সন্দেহ  

ভার্সিটির  লাইফটা বিশেষ করে হল লাইফটা মন্দ ছিলনা   ফেসবুকিং করার  ফাঁকে ফাঁকে ক্লাস করা, ক্লাসে বসে ঝিমানো, শর্টপিচ ক্রিকেটে চিতার ক্ষিপ্রতায় ফিল্ডিং করা, মসজিদের বারন্দায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেওয়া ... শুধু চিল আর চিল বাবামার নজরদারি যেহেতু  ছিলনা কাজেই ছোটবেলা থেকে মেনে আসা সান্ধ্য আইনের থোড়াই কেয়ার করে  ইচ্ছেমতো রাত বিরাতে  ঘুরে বেড়ানো যেত   আহারে! সেই দিনগুলা , আহা!



 তো এই পুরো সেমিস্টার জুড়ে পড়াশোনার সঙ্গে রংবাজি করার ফলে সেমিস্টারের শেষ  সপ্তাহে  আর পরীক্ষা চলাকালীস সময়  পুরো নরক নেমে আসতো  প্রত্যেকটা কোর্সের বিশাল বিশাল সিলেবাস   দুই,একদিনের বন্ধে শেষ করতে  চোখের জল আর  নাকের জল এক হয়ে যেত  নির্ঘুম রাত কাটিয়ে খাটি গাঁজাখোরের চোখের মত রক্তলাল চোখ নিয়ে পোলাপান হাজির হতো পরীক্ষার হলে 

পরীক্ষা শেষে এক একজন  ঝড়ে বিদ্ধস্ত কাকের চেহারা নিয়ে ফিরতো রুমে  পরীক্ষা খারাপ হলে সেই সঙ্গে থাকতো হতাশা  অমানুষিক পরিশ্রম আর মাত্রাছাড়া টেনশানে উত্তেজিত স্নায়ু  শিথিল করার জন্য এক একজন বেছে নিত এক এক পদ্ধতি  কেউ মড়ার মতো  ঘুমাতো,কেউ গান শুনত,মুভি দেখতো,কেউ আড্ডা দিত আর কেউবা পর্ন দেখতো,মাস্টারবেট করতো 

 বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে  তেমন কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও অন্য দেশের জন্য আছে  আমেরিকার কয়েকটি কলেজে চালানো জরিপ অনুসারে শতকরা ৮৭ জন ছাত্র এবং শতকরা ৩১ জন ছাত্রী স্বীকার করেছেন তারা পর্ন দেখেন  [http://bit.ly/2f0RrFC ]
মানসিক ধকল সামলানোর জন্য অনেকেই  পর্ন দেখে  বা মাস্টারবেট  করে  কিছু চাকুরীজীবিকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন তারা পর্ন দেখেন বা মাস্টারবেট করেন  তাদের উত্তর ছিল কাজের ধকল সামলানোর জন্য 

অদ্ভূত একটা দেশ আমেরিকা  যারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী নিরীহ মানুষ মেরে, যুদ্ধবাজী করে নিজেদের  আবার দাবী করে মানবতার অতন্দ্র প্রহরী  এই আমেরিকাতেই আজিব একটা বুথ খোলা হল একবার   নাম দেওয়া হল মাস্টারবেট বুথ  এই বুথে আছে একটা হাইস্পীড ইন্টারনেট সহ একটা ল্যাপটপ এর আরামদায়ক একটা চেয়ার  উদ্দেশ্যঃ  কাজের চাপে বিদ্ধস্ত মানুষ এখানে এসে প্রেসার রিলিজ করবে   [http://on.mash.to/1OTLgNw] 

এটা মনে হওয়া  স্বাভাবিক যে মাস্টারবেট বা পর্নমুভি দেখা মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য বড় সহায়ক  কিন্তু আসলে তা নয়  এগুলো সামান্য সময়ের জন্য মেন্টাল স্ট্রেস কে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে  [ তা সে গাঁজা, ইয়াবা কিংবা  হিরোইনও পারে ]  কিন্তু  কিছু সময় পরেই মেন্টাল স্ট্রেস ফিরে আসে আরো শতগুনে শক্তিশালী হয়ে  যেমন - 


পর্নোগ্রাফি ও হতাশা :

আসলে ব্যাপারটা অনেকটা মুরগি আগে না ডিম আগে টাইপেরকারো জীবনে ডিপ্রেসান পর্নের জনক আবার কারো ক্ষেত্রে ঠিক এর উল্টাপর্ন দেখার ফলে শুধুমাত্র কিছুক্ষণের জন্য একঘেয়েমি,বিষণ্ণতা,হতাশা,ভয়,ক্রোধ ইত্যাদির চেহারাকে আড়াল করা যায় কিন্তু কোন চূড়ান্ত সমাধান আসে নাএটা ভোক্তা নিজেও জানে

অন্যান্য নেশার মত পর্নের নেশাও আমাদের ব্রেইনে ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয় ও আমাদের পরিতৃপ্ত বোধ করায়মাত্রাতিরিক্ত ডোপামিন নির্গমন মূলত পরিতৃপ্তির স্বাভাবিক অনুভুতিকে নষ্ট করে ও ধাবিত করে হার্ডকোর পর্নের দিকেআমাদের পরিবার,বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গীর সাথে মেলামেশার স্বাভাবিক আগ্রহকে কমিয়ে আনে


মানসিক দুশ্চিন্তা :

পর্নের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েপ্রকৃত ভালবাসা থেকে একসময় ব্যাক্তি নিজেকে বঞ্চিত করেএ আসক্তির ফলে ধীরে ধীরে নিজের আত্মবিশ্বাস লঘু হতে থাকে বা ভেতর থেকে মন আরও অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েপর্নের সাথে জড়িত অপরাধবোধ বা লজ্জার কারণে ব্যাক্তি নিজেকে দুর্বলভাবে আত্মমূল্যায়ন করতে উদ্বুদ্ধ হয়নিজের কাছে নিজের মর্যাদা যদি ছোট হয়ে আসে তাহলে পর্নের মাধ্যমে তুমি  দিনের পর দিন তা আরও ছোট করছএই টানেলের কোন শেষ মাথা নেই যতক্ষণ না তুমি নিজে থেকে ইতি টানার চেষ্টা শুরু করবে


বিচ্ছিন্নতা:

আগেও বলেছি পর্নের ফলে ব্যাক্তি অসামাজিক হয়ে উঠতে থাকেআত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে হ্যাং আউট করার স্পৃহা কমে যায়তার চেয়েও ভয়ংকর হল সঙ্গীর সাথে ইন্টিমেট হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যায়কারণ স্বাভাবিকটা যে তাকে আর আনন্দ দেয় নাঅনেক ফ্যামিলি এভাবেই ভেঙ্গে চলছে
 [http://bit.ly/1PEuC4u ]

পড়া উচিত চোরাবালি সিরিজ [http://bit.ly/2dzgf4I , http://bit.ly/2diRZBJ , http://bit.ly/2h4sMAb  ]

ভয়াবহ একটা ব্যাপার হলো পর্নআসক্তির কারনে একাডেমিক রেজাল্টের বারোটা বেজে যায় 
২০১৫ সালের এক গবেষণাও এরকমটাই বলে  গবেষকরা বলেন  টিনেজারদের পর্ন দেখা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে ছয় মাসের মধ্যেই তারা পরীক্ষায় খুবই খারাপ রেজাল্ট করা শুরু করে 

২০০৮ এ জার্মানির একদল গবেষক বলেন পর্নআসক্তি কলেজ ছাত্রদের একাডেমিক পারফরম্যান্সের উন্নয়নে বড় একটা বাঁধা   পর্নমুভি দেখে এমন ছাত্ররা খুব একটা হোম ওয়ার্ক করতে চায়না, ক্লাস পালায়, ঠিকমতো এসাইন্মেন্ট জমা দেয় না  আসলে কেউ যদি পর্ন বা মাস্টারবেশনে আসক্ত হয় তাহলে তাকে অনেক সময় এবং এনার্জি ব্যয় করতে হয় এই অকাম কুকাম গুলো করতেএগুলো করার পরে আবার খারাপ লাগে  অন্তরের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যায় কোন কাজ করতে ইচ্ছে করে না  শুয়ে বসে, ঝিমিয়ে, ঘুমিয়ে দিন পার করতে ইচ্ছে করে 

 পর্ন দেখার সময় ব্রেইনে খুব শক্তিশালী কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় কেউ এতে আসক্ত হলে তার সব মনযোগ এতেই কেন্দ্রীভূত হয়; কবে ম্যাথ এক্সাম হবে বা  কবে কোন  এসাইন্মেন্ট জমা দিতে হবে তার কিছুই মনে থাকে না  তার   পক্ষে পড়াশোনায় মনযোগ দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না  মাথায় পর্নমুভির দৃশ্যগুলো ঘুরতে থাকে  পর্নমুভির ফ্যান্টাসিতে বুঁদ হয়ে থাকতেই সে পছন্দ করে , পড়াশোনা তার কাছে   কাঠখোট্টা, নীরস মনে হয়   ফলাফল- পরীক্ষায় ডাব্বু মারা 



ছাত্রজীবন অসাধারন একটা সময়  এর প্রত্যেকটা সময় চুটিয়ে উপভোগ করা উচিত ভাই আমার, অন্ধকার রুমে একা একা বসে পর্ন দেখে/ মাস্টারবেট করে হতাশা আর অস্থিরতায় জীবনটা দুর্বিষহ করে তুলোনা  রুম থেকে একটু বের হও তুমি    দেখ কত সুন্দর একটা পৃথিবী তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে   বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দাও, দলবেঁধে  ঘুরতে যাও , সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটো, শুয়ে থেকে আকাশ দেখ, বৃষ্টিতে ভেজো, মাঠে খেলাধুলা করো, সাইক্লিং করো, দৌড়াও খুব বেশী হতাশ লাগলে, মন খারাপ হলে মসজিদে যাও  তাক থেকে কুর’আনের একটা কপি  তুলে নাও যেকোন পেইজ বের করে পড়তে শুরু কর, দেখবে হতাশা,মন খারাপ কোথায় পালিয়ে যাবে ! স্রেফ মসজিদে বসে থাকলেও দেখবে মন ভালো হয়ে যাবে 
  
নিয়মিত পড়াশোনা তোমাকে করতে হবে এটা বলছি না   ক্লাসে ফেসবুকিং করার মাঝে মাঝে   লেকচারের দিকে একটা কান খোলা রেখ  ইচ্ছে হলে মাঝে মাঝে লেকচার খাতায় তুলে রেখ  উইকএন্ডের একটা দিন বা ক্লাস টেস্টের আগে টপিক গুলোতে চোখ বুলিয়ে রাখো  যেই বন্ধুর কাছে তুমি পরীক্ষার আগের রাতে পড়া বুঝতে যাও তার কাছে পরীক্ষার আগের রাতে না যেয়ে উইকএন্ড গুলোতে যাও  এই ছোট ছোট কাজগুলোই তোমাকে অনেক এগিয়ে রাখবে   ফাইনাল পরীক্ষায় আর চাপ পড়বে না  তোমাকে অমানুষিক পরিশ্রমও করতে হবেনা  হতাশাও আসবে  না ইনশা আল্লাহ্‌ উত্তেজিত স্নায়ুকে শিথিল করার জন্য অকাম,কুকামও করতে হবে না    
 ভালো একটা রেজাল্ট হবে  বের হয়ে খুব ভালো একটা জব পাবে ইনশা আল্লাহ্‌  তারপর মন মতো একজনকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে  থাকবে 

...... ইয়া রব্ব! তুমি আমাদেরকে ইহকালীন যাবতীয় সুখ-শান্তি দান কর আর পরকালীন যাবতীয় সুখ শান্তি প্রদান কর  আর দোযখের আগুন থেকে আমাদের রক্ষা কর 

[লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত]