Monday, April 18, 2016

সিরিয়াল কিলার (প্রথম পর্ব)

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।


অত্যন্ত সুদর্শন আর হ্যান্ডসাম ছিল সে । লম্বা, ঋজু শরীরের কাঠামো , কোঁকড়ানো চুল, ঈগলের ঠোটের মতো বাঁকানো খাড়া নাক । প্রথম দর্শনে যে কেউই পছন্দ করে বসত , রাজ্যের  মায়াভরা চোখ দুটো যে কোন মেয়েরই রাতের ঘুম হারাম করার মতো যথেষ্ট ছিল ।
আইনের তুখোড় ছাত্র ,বিনয়ী নম্র ,  মার্জিত রুচির পোষাক আশাক সব মিলিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ।আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রলোক ।

থিওডর রবার্ট বান্ডি ওরফে  টেড বান্ডি 

সুদর্শন চেহারা আর ভদ্রলোকের মুখোশের আড়ালে  সম্পূর্ণ অন্য একটা মানুষ ছিল সে- যেন রবার্ট লুই স্টিভেন্সনের গল্পের বই থেকে উঠে আসা বাস্তবের  ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডসে ছিল একটা সিরিয়াল কিলার , রেপিস্ট , একটা নরপিশাচ । ৩০ এরও বেশি মেয়েকে সে নিজের হাতে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছিল যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশী । 
লোকে তাকে টেড বান্ডি বলেই জানতো । শেয়ালের মতো ধূর্ত ছিল সে , বিড়ালের মতো নিঃশব্দ ছিল তার চলাফেরা ।  খুব নিখুঁত নারী শিকারের  প্ল্যান করতো বান্ডি , চিতার ক্ষিপ্রতায়  শিকার করে  স্রেফ  ভূতের মতো  মিলিয়ে যেত হাওয়ায় । বাঘা বাঘা পুলিশ অফিসার আর ঝানু ঝানু গোয়েন্দাদের নাকের জল আর চোখের জল এক করে ছেড়েছিল সে   সত্তরের দশকে আমেরিকার ৭ টি প্রদেশ জুড়ে  কায়েম করে ফেলেছিল এক ত্রাসের রাজত্ব ।


থিওডর রবার্ট বান্ডি ওরফে  টেড বান্ডির জন্ম মার্কিন মুলুকের Burlington, , ১৯৪৬ সালের ২৪শে নভেম্বর । বান্ডির  বাবা কে ছিল  তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ ছিল ।  বান্ডির মনে সারাজীবন মায়ের প্রতি চাপা একটা ক্ষোভ ছিল এ ব্যাপারটা নিয়ে ।   
পড়াশোনাতে বেশ মেধাবীই ছিল টেড  বান্ডি ,১৯৭২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে গ্র্যাজুয়েশান কমপ্লিট করে সে ।

প্রথম আঘাতঃ
ঠিক কখন এবং কোথায় বান্ডি নারী শিকার শুরু করেছিল তা নিয়ে বিস্তর তদন্ত  হয়েছে , জল অনেক ঘোলা করা হয়েছে কিন্তু   আসল তথ্য বের করা সম্ভব হয়নি । বান্ডি এক এক সময় এক একজনকে এক এক রকম কথা বলতো ।
ধারনা করা হয় ১৯৬৯ সালে সে মেয়েদের কিডন্যাপ করা শুরু করলেও  খুন করা শুরু করে ১৯৭১ সালের পর থেকে ।
কিছু আলামত এবং তদন্ত  থেকে অনেক ডিটেক্টিভ আবার ধারনা করেন খুনি হিসেবে বান্ডির আত্মপ্রকাশ আরো অনেক আগে,  ১৯৬১ সালে ৮ বছর বয়সের একটা মেয়েকে খুন করার মাধ্যমে - যখন বান্ডির বয়স মাত্র ১৪ । বান্ডি অবশ্য চিরকাল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ।
টুকটাক কিডন্যাপিং এবং  দু একটা খুন করে হাত পাকানোর পর বান্ডি শুরু করে তার  আসল খেলা ১৯৭৪ সালে , ২৭ বছর বয়সে ।


শিকারঃ

বান্ডি টার্গেট করত হাল ফ্যাশনের আকর্ষণীয় পোশাক পড়া সুন্দরী কলেজ,ইউনিভার্সিটির  মেয়েদের  যাদের বয়স সাধারনত   ১৫-২৫ বছর । সুন্দর জামা কাপড় পড়ে কেতাদুরস্ত হয়ে মুখোশ, টর্চ লাইট , দড়ি দাড়া , সিঁধকাঠি , হ্যান্ডকাফ  ইত্যাদি  বাদামী  ভোক্সওয়াগানে চাপিয়ে বান্ডি বেরিয়ে পড়তো শিকারের খোঁজে । টহল দিয়ে বেড়াতো এমন জায়গাগুলোতে যেখানে নারীদের আনাগোনা খুব বেশি । কাউকে মনে ধরলে বা একা একা কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলে নেমে আসতো গাড়ি থেকে ।

এই সেই বাদামী ভোক্সওয়াগান ; টেড বান্ডির অনেক পাপের সাক্ষী 

তার  এক  হাত ঝোলানে থাকতো স্লিংএ বা এক পায়ে থাকতো প্লাস্টার – ভান করতো যেন  তার হাত / পা ভাঙ্গা । আরেক হাতে থাকতো  ভারী ব্রিফকেস  বা মোটা মোটা বই । টার্গেটের খুব কাছে যেয়ে টার্গেটের মনযোগ আকর্ষণের জন্য  বই গুলো সশব্দে ফেলে দিত বা এমন অভিনয় করত যে খুব কষ্ট হচ্ছে তার ব্রিফকেসটা বহন করতে  - জরুরী  সাহাজ্য দরকার ।
টার্গেট সাহাজ্য করতে আসলে সুদর্শন টেড বান্ডি “শুধু কথা দিয়েই চিড়ে ভিজিয়ে ফেলতো”অনুরোধ করত বইগুলো গাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার । বই / ব্রিফকেস নিয়ে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানো মাত্রই নরক নেমে আসতো  টার্গেটের মাথায় । 
বেশ কয়েকদিন পর অসহায় মেয়েটার  বিকৃত ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়া  জামা কাপড় ছাড়া লাশ পাওয়া যেত কোণ এক পরিত্যাক্ত জায়গায় – পাহাড় পর্বতে বা বনে জংগলে । অনেক সময় লাশের চিহ্নটুকুও পাওয়া যেত না ।

বান্ডি এতোটাই  বিকৃত মানসিকতার ছিল যে সে লাশ পচে গলে  যাওয়ার আগ পর্যন্ত লাশের সঙ্গে সেক্স করতো । হয়তো  একজায়গায় খুন করে ২০০ মাইল দূরের কোন এলাকায় যেয়ে সে আরেকটা খুন করতো , তারপর আবার প্রথম ক্রাইম স্পটে এসে লাশের ওপর ঝাল মিটাতো – আস্ত  শয়তান লোক । 

সিয়াটল , সল্টলেক সিটি , কলারাডো , ফ্লোড়িডার মেয়েরা  অদৃশ্য আতংকে ভুগতো , অজানা এক সাইকো ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরে   না  জানি কখন কার পালা আসে । এক হোস্টেল থেকে আরেক হোস্টেলে যাবার সময় , থিয়েটার বা মুভি থেকে ফেরার পথে  এমনকি করিডোর দিয়ে এক রুম থেকে  অন্য রুমে যাবার সময়ও মেয়েরা গায়েব হয়ে যেত , চিরুনী অভিযান চালিয়েও ধরা যেত না ঘাতককে ।

মাঝে মাঝে  টুকটাক চাকুরী করলেও বান্ডির আয়ের একটা বড় উৎস ছিল পকেট কাটা  আরো নির্দিষ্ট করে  বললে মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ কাটা । হাত সাফাইও  ভালো জানতো সে । সুপার স্টোর গুলো থেকে জিনিস পত্র চুরি করার ওস্তাদ লোক ছিল এই বান্ডি  ।

 একের পর এক মেয়ে রহস্যময় ভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে অথচ রহস্যের  কোন কিনারা হচ্ছে না – ধরা পড়ছে না ঘাতক । king county sheriff  office  এর ডিটেক্টিভরা আর Seattle Police Department  কুত্তা পাগল হয়ে  গিয়েছিল অপরাধী ধরার জন্য । কিন্তু বান্ডির শিকারের সংখ্যা কুড়ি পার হবার আগ পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারে নি তারা  প্রত্যেকেই আসলে  পৃথক পৃথক ভাবে একজন লোকের পেছনে ছুটছে ।


বান্ডির নারী শিকারের সরঞ্জাম 

 এর কারন ছিল অবশ্য – টেড বান্ডির মস্তিষ্ক ছিল ক্ষুরধার, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারার অভাবনীয় ক্ষমতা ছিল তার , ক্রাইম মেথোডোলজি নিয়ে গভীর  পড়াশোনা তাকে শিখিয়েছিল   কিভাবে কারো সন্দেহের উদ্রেক না করে ক্রাইম স্পটে আঙ্গুলের ছাপ বা এই জাতীয়  কোন ক্লু না ফেলে নিমিষেই  হাপিশ হওয়া যায় । ছদ্মবেশ ধারন করাতে ওস্তাদ ছিল সে -  চুলে দু আঙ্গুল চালিয়ে বা ফেসিয়াল এক্সপ্রেশান বদলে ফেলে খুব তাড়াতাড়িই নিজের চেহারা বদলে ফেলতে পারত – এ কারনেই কোন প্রত্যক্ষদর্শীই নির্দিষ্ট করে তার চেহারার বিবরন দিতে পারতোনা পুলিশকে ।
ফায়ার আর্মস ব্যবহার করা সে সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গিয়েছিল নিজের আইডেন্টিটি লুকানোর জন্য – ব্যবহার করতো বাড়ির টুকুটাকি জিনিস – নাইলনের  দড়ি দাড়া , স্টকিং ...

এতো বিশাল এলাকার পরিধিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে  সে খুন এবং রেপ গুলো করতো যে পুলিশের পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না যে এই সব নারকীয় ঘটনার পেছনে একটা লোকই দায়ী - টেড বাণ্ডি , বান্ডির নিজের ভাষায় - "... the most cold-hearted son of a b***h you'll ever meet  ...

ঠিক কতটা খুন বান্ডি করেছিল তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেন না – ৩০ টি খুনের ঘটনা সে নিজে স্বীকার করেছে । কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ সাক্ষ্য দেয় তার খুনের সংখ্যা প্রায় একশোর কাছাকাছি । টেড বান্ডির আইনজীবিও একসময় স্বীকার করেছিল টেড একশোর বেশী  হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত  ।

কি ছিল টেড বান্ডির এই অন্ধকার জগতের চালিকা শক্তি ? কেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের উঁচু ডিগ্রীও টেড বান্ডিকে মানুশ বানাতে পারেনি ? টেড বান্ডির শেষ পরিনতিই বা কি ছিল ?
 সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সিরিয়াল কিলার সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে (http://lostmodesty.blogspot.com/2016/04/blog-post_22.html ) ইনশা আল্লাহ  
.........
 

তথ্য সূত্র- ইন্টারনেট 

Thursday, April 14, 2016

অভিশপ্ত নগরী


বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম । 

৭৯ খ্রিস্টাব্দ, আগস্ট মাস। ইটালির ক্যাম্পানিয়া অঞ্চল।
শহরটা ছিল আজকের দিনের নেইপলস-এর কাছাকছি। ষষ্ঠ এবং সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সূচনা এই চোখধাধানো নাগরিক সভ্যতাটার। একাধারে ব্যবসা, সংস্কৃতি আর বিনোদনের কেন্দ্র। অ্যাম্পফিথিয়েটার, জিমনেইসিয়াম [আদি অর্থ দ্রষ্টব্য], বন্দর আর তৎকালীন প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের শহর।
.
তবে এসব ছাপিয়ে উঠে আসে আরেকটা পরিচয়। প্রায় ২০,০০০ অধিবাসীর এই শহরটাতে সময়ের গতি যেন অন্য সব জায়গার চাইতে একটু বেশীই। সব সময় আবেগ, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের উচু তাঁরে বাধা যেন এই জায়গাটা। তারুণ্যের, আনন্দের আর যৌবনের বাধভাঙ্গা উল্লাসের এক কেন্দ্র। নিজেকে হারিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে খুজে পেয়ে আবার হারিয়ে ফেলার জন্যই যেন এই শহরটা তৈরি। এই শহর মুক্তমন আর সস্তা শরীরের। এই শহর পতিতাদের, এই শহর পতিতদের। এই শহর সমকামের, শিশুকামের, অযাচারের আর অবাধ যৌনাচারের। মদ, মাংশ আর মাৎসর্যের যতোসব আনন্দ আপনি চিন্তা করতে পারবেন আর যা কিছু চিন্তা করতে পারবেন না, সেই সবকিছু খুজে পাবার শহর হল এই পম্পেই।
.
শুধু চাঁদের বুকে কালিমার মতো একটা উপদ্রবের মতো হল দিগন্ত আড়াল করে থাকা ভিসুভিয়াস পর্বত। প্রায় ১৫ বছর আগে এই ভিসুভিয়াসের উৎপাতেই নেইপলস উপসাগরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভূমিকম্পের কারণে পম্পেইর ও অনেক ক্ষতি হয়েছিল। তবে পম্পেই আর পম্পেই এর চেতনাকে কোন ভূমিকম্প হারাতে পারবে না। কই কতো ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও পম্পেই কি ঘুরে দাঁড়ায় নি? আবার কি গড়ে তোলেনি পুরনোর ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন করে? বরং আগের চেয়েও আর আকর্ষণীয় হয়ে, আরো মনোমুগ্ধকর রূপে সেজে পম্পেই উঠে দাঁড়িয়েছে। মেতে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছাসে। গড়ে তুলেছে প্রতিটি গলিতে গলিতে স্বাধীন নারী আর সুশীল কামুকের প্রিয় সেই উপাসনালয়, মুক্তমনা পুরুষ আর মুক্ত শরীরের আলোকিত গণিকাদের পবিত্র আশ্রয়।

.
আর শুধু এখানেই থেমে থাকা কেন- সত্যিকারের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী পম্পেই স্বাধীনতাকে নারীদেহে আটকে রাখে নি। কেন পুরুষের জন্য পুরুষ, নারীর জন্য নারী, নারী ও পুরুষের জন্য শিশু আর পিতা ও মাতার দেহের জন্য সন্তানের দেহও ক্ষনিকের আনন্দের জন্য উন্মুক্ত হবে না? পম্পেইর স্বাধীনতা, মুক্তদেহ আর মুক্তমনের চেতনায় কোন দ্বিমুখীতা নেই। সব উন্মুক্ত। সব জায়েজ। আনন্দ, বিনোদন আর উত্তেজনা এই শহরের দেবতাবৃন্দ।
.

পম্পেই ঘুমায় না, পম্পেই জেগে থাকে। পম্পেই ভয় পায় না। পম্পেই আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না, বর্তমান নিয়ে মেতে থাকে। কই গত কয়েক মাস ধরেই তো ভিসুভিয়াস কি কি জানি গাইগুই করছে – হঠাৎ হঠাৎ মধ্যরাতে গর্জে উঠে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, মাঝে মধ্যেই হালকা ভূমিকম্প হচ্ছে – পম্পেই কি তাতে ভয় পেয়েছে? কেন গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তো প্রায় পুরো দিনই থেমে থেমে ভূমিকম্প হল, গত চার দিন ধরে ভিসুভিয়াসের উপরটা ধোঁয়া দিয়েই ঢেকে আছে বলা যায়। পম্পেই কি ভয় পেয়েছে? ভিসুভিয়াস কি ভেবেছে পম্পেই ভয় পাবে? পম্পেই চিন্তা করবে? এক পর্বতের হম্বিতম্বিতে পম্পেই থামবে?
.
হাহ! ভিসুভিয়াসের গর্জন চাপা পরে গেছে মদ আর মাংশের চিৎকারে। পম্পেই আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া ছাপিয়ে উঠেছে মুক্তমন আর সস্তা শরীরের আনন্দে। কে হারাবে পম্পেই কে? এই প্রযুক্তিকে? এই উন্নতিকে? এই নিশ্চিন্ত বিশ্বাসকে? পম্পেই কোনদিন হারবে না। হার মানবে না...
তাই না?
---------
প্রচন্ড শক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে পনের লক্ষ টন গলিত পাথর, গুড়ো হয়ে যাওয়া আকরিক আর তরল আগুন ছুড়ে দেয়া হয়েছিল মাটী থেকে প্রায় ২১ মাইল উচুতে।নিঃসরিত হয়েছিল হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চাইতে এক লক্ষ গুন বেশী তাপ শক্তি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৩০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে যা এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কেড়ে নিয়েছিল হাজারো মানুষের জীবন। আনন্দ-উচ্ছাসে মত্ত হাজারো মানুষ শুধু প্রচন্ড তাপের কারণে সৃষ্ট হওয়া থার্মাল শকে, তীব্র খিচুনিতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে শরীর বেঁকে যাবার মত সময়টুকু পেয়েছিল। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যেই প্রকট মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করার মতো সময়টুকু পেয়েছিল। তারপর আলোকিত গণিকা আর মুক্তমনা সুশীলতার কামুকরা আর তাদের শরীরগুলো চাপা পরে গিয়েছিল ২১ ফিট গভীর আগ্নেয় ছাইয়ের নিচে।
.
আল্লাহু আকবার !
“তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যাও"-তা হয়ে যায়।“ [গাফির, ৪৮]
“তিনিই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে শুধু একথাই বলেন, “হয়ে যাও” আর তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। [আল বাকা’রা ১১৭]
.
--------
কওমে লূতকে মানা করা হয়েছিল, সাবধান করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাচ্ছিল্য করে বলেছিল-
"তাঁর[লূত আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর] সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব পবিত্র থাকতে চায়!" [আল আরাফ- ৮২]
হুদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ‘আদ জাতিকে সতর্ক করেছিলেন কিন্তু তারা উদ্ধত হয়ে বলেছিল-
“... তারা (‘আদ) পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে?”[ফুসিলাত ১৫]
আল্লাহ-র আযাবের আগমনের নিদর্শন দেখেও তারা নিশ্চিন্ত হয়ে বলেছিল -
“(অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।[আল আহকাফ, ২৪-২৫]”
.
সা’মূদকে তিন দিন সময়ের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন সালিহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম, কিন্তু তারা তাঁকে এবং বিশ্বাসীদেরকে বিদ্রূপ করেছিল। তৃতীয় দিনে রাস্তায় নেমে এসেছিল উৎসব করতে, মেতে ঊঠেছিল নাচে গানে উচ্ছ্বাসে, আর বাড়ি ফিরতে ফিরতে নিজেরা বলাবলি করছিল কোথায় সেই শাস্তি? কোথায় গেল সালিহ [আঃ] আর তাঁর রাব্ব-এর প্রতিশ্রুতি ! আর তারপর সালিহ [আঃ]-এর রাব্ব এবং তাঁদের রাব্ব, এবং সমগ্র সৃষ্টির রাব্ব – মালিকুল মূলক’ আল্লাহ্‌ আযযাওয়াজাল তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলেন সেই জিনিষ যার ব্যাপারে তারা প্রশ্ন করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি যা নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করেছিল। সেই শাস্তি যা তারা সহস্র সতর্কবাণীর পরও উপেক্ষা করেছিল –
.
“আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল।যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল...[হুদ ৬৭-৬৮]
.
আর রাহমাতুললীল আলামীন মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর উম্মাহকে জানিয়েছিলেন তাঁর ﷺ রাব্ব যা নাযিল করেছিলেন তাঁর প্রতি। তিনি ﷺ জানিয়েছিলেন কি ঘটেছিল পূর্ববর্তী জাতিদের। ঘন মেঘ দেখে তিনি ﷺ আল্লাহ-র আযাবের ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়তেন, কারণ পূর্ববর্তী জাতির প্রতি আল্লাহ্‌ আযযাওয়াজাল মেঘের মাধ্যমে আযাব প্রেরণ করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, তিনি জানিয়েছিলেন কি ঘটবে যখন পূর্ববর্তী এই জাতিদের অনুসরণ শুরু করবে। আর আজ উম্মাতে মুহাম্মাদী নামধারীরা আল্লাহ্‌ আযযা ওয়াজালের নিদর্শন দেখেও নির্বিকার থাকে। ফেইসবুকে চেক ইন মারে আর সেলফি আপলোড করে। আল্লাহ-র আযাবের ব্যাপারে গাফেল হয়ে তাঁর নিদর্শন নিয়ে রসিকতা করে।
.
"(৯৭) এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।
(৯৮) আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা-ধুলায় মত্ত।
(৯৯) তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।"[সুরা আল 'আরাফ]
.
-----
মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে আর রাহমান – এর রাহমাতের ব্যপ্তি চিন্তা করার ব্যর্থ চেস্টা করি। মাতৃগর্ভ থেকে কবর পর্যন্ত যতো নিয়্যামাত ভোগ করি সেগুলো না, আমাকে সব চাইতে অবাক করে এই সত্যটা যে এই সেলফি তোলা, রসিকতা করা, চেক-ইন মারা, যিনা থেকে শুরু করে সমকামীতাকে মেনে নেওয়া, আল্লাহ-র কালামকে শ্রাগ করে ঝেড়ে ফেলে দেয়ার চেস্টা করা, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নামে পৌত্তলিকতায় মেতে ওঠা, "চেতনা" আর প্রজন্মের" এই পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট বান্দাগুলোর জন্যও আল্লাহ্‌ আর রাযযাক, রিযক দেন। গাফুরুর রাহীম ক্ষমা করেন।
সাদূম, গোমোরাহ, পম্পেই এর অধিবাসীরা ভুলে ছিল। 'আদ, সামূদ উপহাস করেছিল। এই ভুলে থাকা এই উপহাস, হাসিঠাট্টা, অন্ধ বিশ্বাস যে সাজানো গোছানো চেনা জীবনটা এক মুহূর্তের মধ্যে উল্টে যাবে না - আল্লাহ-র আযাব, আল্লাহ-র পাকড়াও এর ব্যাপারে এই নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া কারো কোন কাজে আসে নি। আমাদের ও আসবে না।
“তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।"
.
“তারা জোর শপথ করে বলত, তাদের কাছে কোন সতর্ককারী আগমন করলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথে চলবে। অতঃপর যখন তাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করল, তখন ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে তাদের ঘৃণাই কেবল বেড়ে গেল।পৃথিবীতে কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তবে তারা [কি] পূর্ববর্তীদের দশা ছাড়া আর কোন পরিণাম আশা করছে? অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না। [ফাতির ৪২-৪৩]

লিখেছেন Asif Adnan ভাই । আল্লাহ (সুবঃ) তাঁকে উত্তন প্রতিদান দান করুক । 


Friday, April 1, 2016

রিমাইন্ডার




বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম 



রিমাইন্ডার -১
বালক দরজা লক করে পিসির সামনে এসে বসলো । তড়িঘড়ি করে নেট কানেক্ট করে তার প্রিয় এক্স-রেটেড ওয়েবসাইটে ঢুকলো । বালক তখনো জানতো না আর কিছুক্ষণ পরেই তার সঙ্গে আজরাইলের  এপোয়েন্টমেন্ট আছে ......... 


রিমাইন্ডার -২
বোন,
 তুমি যদি জানতে অনেক ছেলেরা তোমার প্রোফাইল পিক বা সেল্ফি দেখে তোমাকে নিয়ে কি চিন্তা করে, তোমার কথা ভেবে বাথরুমে কি করে বা বন্ধুদের ১৮+ আড্ডায় তোমাকে নিয়ে কি আলোচনা করে, তাহলে তুমি হয়তো ফেসবুকে ছবি আপ্লোড করার চেয়ে মরে যাওয়াটাই বেশি  পছন্দ মনে করতে.........


রিমাইন্ডার -৩
ট্রেনে বা বাসে করে কোথাও যাচ্ছেন । বেশ লম্বা জার্নি । হাতে অফুরন্ত সময় । ম্যাদম্যাদে জার্নিটাকে আনন্দদায়ক করার জন্য ফোন/ ল্যাপটপ বের করে  আইটেম সং দেখা শুরু করলেন । এবং  কিছুক্ষণ পরে ভয়ানক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে  কোন রিটার্ন টিকিট ছাড়াই পরপারে চালান হয়ে গেলেন.........    



রিমাইন্ডার -৪
আপনি কোন হারাম কাজ করা অবস্থায়  মারা গেলেন । আপনার অকাল মৃত্যু দেখে আপনার হারাম কাজের  সঙ্গী  সব ইয়ার  দোস্তরা  তওবা করে আল্লাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করল । আপনার বন্ধুরা সব জান্নাতে চলে গেল    হাশরের ময়দানে আপনাকে একা একা উঠতে হল বিশাল পাপের বোঝা নিয়ে ......


রিমাইন্ডার -৫
দরজা  ভেজিয়ে দিয়ে  পিসির সামনে এসে  বসলেন ।   আপনার ফেভারিট পর্নমুভিটা চালিয়ে দিয়ে মাস্টারবেট করা শুরু করলেন ।  উত্তেজনার বশে আপনি দরজার লক লাগাতে ভুলে গিয়েছিলেন এবং আপনি যখন মাস্টারবেশনের ক্লাইম্যাক্সে ঠিক তখনি আপনার মা দরজা ঠেলে আপনার রুমে ঢুকল .........


রিমাইন্ডার -৬
আপনার ন্যাওটা এবং আপনার   খুব আদরের  ছোট বোন একদিন আপনার পিসিতে শত শত জিবি জঘন্য রকমের  পর্নমুভি  খুঁজে পেল .........


রিমাইন্ডার -৭
স্ত্রীর মুখের দিকে তাকানোর সাহস হলনা আপনার । তড়িঘড়ি করে পাশ ফিরলেন । স্ত্রীর উতপ্ত , অতৃপ্ত নিঃশ্বাসের শব্দে আপনার ভেতরটা কুকড়ে যাচ্ছে ।   সংসার কতদিন টিকবে  জানেন না ।  নিজেকে বার বার ধিক্কার দিলেন সে    ইশ! কেন যে আমি এতো পর্নমুভি দেখতাম আর ঐ জঘন্য কাজটা করতাম 
......... 

রিমাইন্ডার -৮
"...... তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কান, চক্ষু  ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে "(সূরা হা-মীম সেজদাহ, আয়াত ২০)

রিমাইন্ডার -৯
কয়েকটা ক্লিকেই ইন্টারনেট হিস্টোরি ডিলিট করে দিয়ে হাঁফ ছাড়লেন । কিন্তু কিরামীন, ক্বাতীবীনের খাতায় সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ লিখা থাকলো ......... 


রিমাইন্ডার -১০
বালক পর্নমুভি দেখার আগে এবারোও ভাবলো আজকেই শেষ, আর  কোনদিন  দেখবনা .........


রিমাইন্ডার -১১
 আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। (আলকুরআন ১৬:৯০   )

রিমাইন্ডার -১২
তাদের বলে দাও(হে মুহাম্মাদ):আমার প্রতিপালক প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা,পাপকাজ..................নিষিদ্ধ করেছেন।”(আলকুরআন ৭:৩৩)


রিমাইন্ডার -১৩
যদি পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হতে দেখতাম নিজের আমলনামা (ভিডিওসহ), তাইলে হয়তো ঘেন্নায় নিজেই নিজেরে কোপ মারতাম।
সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তা'আলার,
 যিনি বান্দার পাপ গোপন রাখেন।

রিমাইন্ডার -১৪
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।.........”(আলকুরআন ২৪:৩০-৩১)


রিমাইন্ডার -১৫
হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে।”(আলকুরআন ২৪:২১)


রিমাইন্ডার -১৬
যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে পীড়াদায়ক শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন,তোমরা জানো না।”(আলকুরআন ২৪:১৯)

রিমাইন্ডার -১৭
.........কোনো বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথা বলা জিহ্বার যিনা, স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা মনের যিনা । (বুখারী) 

রিমাইন্ডার -১৮
 
.........
  যে ব্যাক্তি যিনা  করে কিংবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেন, যে ভাবে কোন ব্যাক্তি তার জামা মাথার উপর দিয়ে খুলে ফেলে । (হাকেম)


রিমাইন্ডার -১৯
"যে পুরুষ এমন মহিলার দেহে কামনার সাথে হাত দেবে যে তার জন্য হালাল নয়,কিয়ামতের দিন তার হাত তার কাঁধের সাথে বাঁধা অবস্থায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে। যদি সে ঐ মহিলাকে চুমো খায় তবে জাহান্নামে তার ঠোঁট দুটি কাটা হবে। যদি সে তার সাথে ব্যভিচার করে তবে তার উরু কেয়ামতের দিন তার বিরূদ্ধে সাক্ষ্য দিবে এবং বলবে, আমি হারাম কাজের জন্য তার উপর আরোহণ করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা তার দিকে ক্রোধের দৃষ্টিতে তাকাবেন এবং তার চেহারার গোশত খসে পড়বে। আল্লাহ বলবেন তুমি কি করেছ? তখন তার জিহ্বা বলবে, আমার জন্য যা হারাম ছিল তা বলেছি। তার হাত বলবে আমি হারাম বস্তু গ্রহণ করেছি। তার চোখ দুটো বলবে আমি হারামের দিকে দৃষ্টিপাত করেছি। তার পা দুটো বলবে, আমি হারামের পথে অগ্রসর হয়েছি। তার যৌনাঙ্গ বলবে, আমি ব্যভিচার করেছি। রক্ষী ফেরেশতাদের একজন বলবে, আমি শুনেছি এবং অপরজন বলবে আমি তা লিখেছি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি এ সম্বন্ধে অবগত ছিলাম কিন্তু তা গোপন রেখেছি। তারপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, "হে আমার ফেরেশতাগণ! তাকে পাকরাও কর এবং আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাও। যার লজ্জা নেই তার প্রতি আমার ক্রোধের অন্ত নেই!"

[ইমাম হাফিজ শামসুদ্দীন আয যাহাবী (র) এর "কিতাবুল কাবায়ের" থেকে উদ্ধৃত]

এখন থেকে মার্কেটে ভীড়ের মধ্যে, বাসের ভীড়ে মেয়েদের শরীরে হাত দেওয়ার আগে এইটা খেয়াল রাখবেন আশা করি 
সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, আন্তরিকভাবে তাওবা করে আল্লাহ সুবহানু তায়ালার কাছে ফিরে আসলে অবশ্যই তিনি ক্ষমা করবেন। 

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌...

[কৃতজ্ঞতা প্রকাশঃ এই আর্টিকেলের কিছু অংশ কয়েকজন ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট হতে সংগৃহীত। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।]