Sunday, April 5, 2015

ব্রেক দ্যা সার্কেলঃ মাস্টারবেশন থেকে মুক্তি

শহুরে মুরগীর কুঠির জীবন চাওয়া-পাওয়া ,সাফল্য-ব্যর্থতার সংজ্ঞা পালটে দিয়েছে । কর্ম ব্যস্ত জীবনের চাপে পিষ্ট হয়ে আমাদের হাসফাস অবস্থা । ভোগবাদী সমাজ সুকুমার বৃত্তি গুলো  ধ্বংস করে দিচ্ছে । নগ্নতা, অশ্লীলতা, অনাচারকে সাদরে বরণ করে নেওয়ার জন্য  ড্রয়িংরুমে হাজার হাজার টাকা দিয়ে কেনা “বোকা বাক্সটা”তো সাজিয়েই রেখেছিই । এরকম এক ভয়াবহ অস্থির  সমাজে তরুণরা যে নানা বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক । আমাদের তরুণরা যত রকম বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার মধ্যে বেশ ভয়াবহ একটা হল হস্তমৈথুন  ।
 তরুণদের ছি ছি করে লাভ নেই, গাধার সামনে মুলো ঝুলোলে  এরকমই হয় । অনেক তরুণ আছে যারা এই    থেকে বের হয়ে আসতে চায় । কিন্তু “ভালবাসার  মোড়কে কাম বেচা” এই সমাজে সেটা প্রায় অসম্ভব । আবার এই পঁচে যাওয়া সমাজটাও তো পরিবর্তিত হচ্ছেনা। তাহলে কীভাবে কি ? সারা জীবনই কি তরুণেরা হস্তমৈথুনের দুষ্টচক্রের মধ্যে বন্দী হয়েই থাকবে? মাথা কুটে কুটে দিন পার করবে?  


অসম্ভবকে সম্ভব করাই মানুষের কাজ । চলুন দেখি কীভাবে বের হয়ে আসবেন এই ভয়ঙ্কর দুষ্টচক্র থেকে
    
১) প্রথমেই উপলব্ধি করুন এটা আপনার জন্য ভাল না ।
আপনি কি  এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানেন –
·   হস্তমৈথুন   আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী বিষন্নতায় ভোগাবে
·    আপনাকে ভাবতে শেখাবে শুধুমাত্র এটাই আপনাকে সুখ দিতে পারে
·    দাম্পত্য জীবনে আপনি ভয়াবহ রকমের ব্যর্থ হবেন
·    এটা করার পর আপনার নিজেরই নিজেকে ঘৃণা করতে ইচ্ছা করবে । নিজের কাছে নিজেকেই দোষী দোষী বলে মনে হবে । আপনার স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটবে।
·        হস্তমোইথুন একপর্যায়ে আপনার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে ।
এছাড়াও অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে  আপনি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হবেন
·          পিঠ এবং পিঠের নিম্নাংশে ব্যাথা
·         চুল পড়া
·         অলসতা
·         চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া
·         সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা
·         স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
·         আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া

অতিরিক্ত
 হস্তমৈথুন  আপনার ইজাকুলেশান টাইমকে কমিয়ে দিবে । এতে আপনার লাইফ পার্টনার অতৃপ্তিতে ভুগবেন, যা অনেক পাপের পথ খুলে দিতে পারে ।
বিস্তারিত পড়ুন চোরাবালি সিরিজে

২) হস্তমৈথুন  যে বেশ ক্ষতিকর এটা আপনি উপলব্ধি করে ফেলেছেন । তারমানে আপনি হস্তমৈথুন   থেকে রিকভারি করার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছনে ।   এখন আপনার কাজ হল কেন আপনি হস্তমৈথুন   করেন এই বিষয়টা বের করে ফেলা । আপনার প্রাত্যাহিক রুটিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ফেলুন; কি কি বিষয়সমূহ আপনাকে হস্তমৈথুন  করতে বাধ্য করছে ।

আপনি কি
·        প্রাত্যাহিক রুটিনে আপনি  বিরক্ত হয়ে গেছেন ?
·         অধিকাংশ সময়ই একা থাকেন ?
·         হতাশ?
·       হতাশা, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি,জীবনের গ্লানি,অবসাদ  দূর করার জন্য হস্তমৈথুন করেন ?
·         আপনার হাতে প্রচুর অবসর সময় এবং আপনার করার কিছুই নেই?
·         নিয়মিত পর্ন মুভি, আইটেম সং দেখেন?  


৩) এবার আমরা দেখব কীভাবে হস্তমৈথুন  এর দুষ্টচক্র ভেঙ্গে বের হয়ে আসতে হবে ।
প্রথমত, আপনি  নিজের উপর ভরসা করতে শিখুন । প্রচুর পরিমানে দু’আ করুন আল্লাহ্‌র কাছে । দু’আর শক্তিকে কখনোই অবহেলা করবেন না । অনেক অনেক লোক আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে তাঁর কাছে দু’আ করার মাধ্যমে হস্তমৈথুন   থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে । কাজেই আপনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হন, আপনি হস্তমৈথুন করা ছাড়তে চান এবং আপনি অবশই সেটা পারবেন।
আপনার অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন । কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে (ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং) সেটা নিয়ে লেগে থাকার চেষ্টা করুন । হবি গ্রোআপ করার চেষ্টা করুন । ভালো, দ্বীনি ফ্রেন্ড সার্কেলের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন ।

সবসময় মনে রাখবেন
, আপনি  অবশ্যই হস্তমৈথুন করা পুরোপুরি ছেড়ে দিতে পারবেন । এবং হস্তমৈথুনের   বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আপনি একা নন ।
এছাড়াও যা করতে পারেন
·        জীবন কে উপভোগ করতে শিখুন
·         আপনার প্রাত্যাহিক জীবনকে যতবেশি সম্ভব কর্মব্যস্ত করে তুলুন
·         রোজা রাখতে পারেন । এটা আপনার অতিরিক্ত এনার্জি শুষে নিয়ে আপনাকে হস্তমৈথুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে (সপ্তাহে অন্তত একদিন রোজা রাখার চেষ্টা করুন । সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার । রাসূল (সাঃ) বলেছেন,যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে নেয় । আর বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকলে সে যেন রোজা রাখে।)

আপনি যদি কতগুলো অভ্যাস বদলাতে পারেন তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ অবশ্যই  হস্তমৈথুন করা ছাড়তে পারবেন ।

·         সালাত আদায় করার চেষ্টা করুন। নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
·         পর্ন মুভি দেখা বন্ধ করুন  । কম্পিউটার এমন যায়গায় রাখুন  যেখানের বসে কিছু দেখলে সবাই আপনাকে দেখতে পাবে ।

·
         চোখের হেফাজত করুন। (এটা খুব খুব জরুরি)  বিভিন্ন পত্রিকার বিনোদন পেইজ, ক্রোড়পত্র পড়া থেকে  বিরত থাকুন । মিউজিক ভিডিও, ভারতীয় অশ্লীল বিনোদন থেকে নিজেকে বাঁচান ।

·
         যে সময়টাতে এবং যে যায়গাটাতে আপনার মধ্যে হস্তমৈথুন করার ইচ্ছা জাগ্রত হয় সেই সময় একা একা না থেকে মানুষজনের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন । এবং পারতপক্ষে সেই  যায়গাতে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন

·
         যদি গোসলখানায় এই ব্যাপারটা মাঝে মাঝেই ঘটে, তাহলে গোসলখানায় যতকম সময় থাকা সম্ভব ততকম সময় থাকুন । গোসলখানায় বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকুন । মনে মনে ম্যাথ সল্ভ করতে পারেন । ধাঁধার উত্তর খুজতে পারেন । নিজেকে যত কম সম্ভব তত কম স্পর্শ করুন

·
         নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন । জগিং করতে পারেন,সাঁতার কাটতে পারেন । বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পারেন।

একটা বিষয় মাথায় রাখা খুব খুব জরুরী সেটা হল আপনি প্রথমবারেই  হস্তমৈথুন করা ছেড়ে দিতে পারবেন না । আপনি যদি প্রত্যেকদিন হস্তমৈথুন করেন তাহলে নিজেকে টার্গেট দিন , এখন থেকে আগামী ৩ দিন আমি হস্তমৈথুন করব না । এই টার্গেট পূরন করতে পারলে নতুন টার্গেট ঠিক করুন আমি আগামী ৭ দিন হস্তমৈথুন করব না । এটা পূরন করতে পারলে আবার নতুন টার্গেট ঠিক করুন। আমি আগামী ১৪ দিন মাস্টারব্রেট করব না । এভাবে চালিয়ে যেতে থাকেন । আর হ্যাঁ প্রতিবার টার্গেট পূরন করার পর নিজেকে  পুরষ্কার  দিতে ভুলবেন না । চকোলেট খেতে পছন্দ করেন, তো বেশি বেশি চকোলেট খান । বিরিয়ানীর কথা শুনলেই জিভে জল চলে আসে , তাহলে ঘুরে আসুন বিরিয়ানির দোকান থেকে ।

আর নিজের জন্য প্রচুর পরিমাণ দু’আ করতে থাকুন ।

ইনশা আল্লাহ্‌ আপনি পারবেনই  । 

পর্দার ওপাশে


পর্নমুভি তার গ্ল্যামার আর চাকচিক্যের চোখ ধাঁধানিতে  সেই অনেক যুগ আগে থেকেই বলে চলেছে এক মিথ্যা গল্প । এই মিথ্যা গল্প নারী আর যৌনতা সম্পর্কে । পর্নমুভি গুলোতে নারীদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তারা ব্যাপারটা করতে খুব খুব উদগ্রীব এবং তারা ব্যাপারটা খুব উপভোগ করছে । কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে পর্নমুভির অভিনেতা অভিনেত্রীরা কেউই ব্যাপারটা একদমই উপভোগ করেন না ।কেবলমাত্র  ঠেকায় পড়ে  তারা এই কাজ গুলো করতে বাধ্য হন । তাদেরকে বিশেষ করে নারীদের চরমভাবে নির্যাতন করা হয় ।

পর্নইন্ডাস্ট্রির মুনাফার অঙ্কটা বেশ স্বাস্থ্যবান । তাই ডিরেক্টর এবং প্রডিউসাররাও এই অমানবিক কাজ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আপনার কাছে পর্নমুভি তো একেবারেই সহজলভ্য তাই না ? কেবল মাউসের  দুটো ক্লিকের ব্যাপার ।  তারপরেই পর্নমুভির অবিরত ভান্ডার  এবং আপনার বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার সূচনা । কিন্তু  নীল স্ক্রিনের গ্ল্যামার দেখে ‘টাস্কি’ খাওয়া আপনি কখনো কি জানতে চেয়েছেন  স্ক্রিনের ওইপাশের গল্পগুলো ? এক একটা ছবি, এক একটা ভিডিওতে  আবদ্ধ রয়েছে আপনারই কোন এক বোনের কোন এক ভাইয়ের হৃদয়ের করুণ হাহাকার ।পর্নমুভির হতভাগ্য অভিনেতা অভিনেত্রীদের  কংক্রিটের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী যতসব আর্তনাদ আর  দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা গুলোর সবটুকু আমরা হয়তো বুঝতে পারব না । কিন্তু তারপরেও চেষ্টা করতে দোষ কি । এখানে এমন কিছু পর্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিজ্ঞতার  বর্ণনা করা হল যারা সেই নরকে ক্ষতবিক্ষত হলেও সেখান  থেকে কোনমতে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন ।


     “ পর্নইন্ডাস্ট্রি  এর  সঙ্গে জড়িত লোকদের অনুভূতি একেবারেই ভোঁতা করে দেয় । এর সঙ্গে জড়িত লোকজন তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে    অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মত আচরণ করে, প্রেতাত্মার মত হেঁটে বেড়ায় ।  পর্নইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের যেভাবে এবিউজ করা হয় তা অকল্পনীয় ।  এখানে নারীদের উপর  যেভাবে নির্যাতন করা হয় তা  মানসিক ভাবে সুস্থ কোন লোকের পক্ষে কখনোই করা সম্ভব না । আমি অল্প কিছু সময় পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছিলাম । কিন্তু এই অল্পসময়ে আমি যে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছি তা ভাবলে এখনো আমি শিউরে উঠি”।
.
“ সত্যি কথা বলতে আমি আমার জীবনকে ঘৃণা করি । আমি নিজেকেও প্রচুর প্রচুর ঘৃণা করি । আমি বেঁচে থাকতে চাইনা । আমি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি”।

.
“পর্নইন্ডাস্ট্রিতে যাবার ৯ মাসের মধ্যে আমি সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি । কিন্তু এর জন্য আমাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হয়েছে । আমি ডিস্প্লাসিয়া (এক প্রকারের  std= sexual transmitted disease) এ আক্রান্ত  হই । এবং কিছুদিন পরে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি । এব্রোশান করা ছাড়া আমার কোন উপায়ই ছিল না । এটা আমাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে ।

     ‘আর সব পর্নঅভিনেত্রীদের মতোই আমি এই মিথ্যাটা সবসময় বলি। আমাকে যখন মানুষজন  প্রশ্ন করে, ঐ পর্নমুভির ঐ হার্ডকোর সীনটা করার সময় আপনার কেমন লেগেছিল । আমি হাসি হাসি মুখ করে বলি , “আমার ভাল না লাগলে কি আমি ঐ সীনটা করতাম? আমার ভালো না লাগলে আমি কোন কাজই করি না, পর্নইন্ডাস্ট্রিতে আমার কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে’।
     এভাবেই দিনের পর দিন আমাকে মিথ্যা বলে যেতে হয়। আসল সত্যটা হচ্ছে আমি কখনোই চাইনা এইসব দৃশ্যে অভিনয় করতে । কিন্তু  ঐসব হার্ডকোর দৃশ্যে অভিনয় না করলে আমি কখনোই এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোন কাজ পাব না’।


‘১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও আমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা শুটিং করতে হয়েছে । আমি কাঁদছিলাম । খুব করে চাইছিলাম বাসায় চলে যেতে । কিন্তু আমার এজেন্ট  চাচ্ছিলনা আমি  শুটিং শেষ না করেই বাসায় চলে যাব । অগ্যতা আমাকে প্রচন্ড শরীর খারাপ নিয়েই কাজ করতে হয়েছিল ।
আর একদিন পরিচালককে খুশি করার জন্য চুক্তি ছিল না এমন একজন লোকের সঙ্গে আমাকে অভিনয় করতে হয়েছিল । সেই লোকটা ছিল একটা পাষণ্ড । আমাকে মেঝেতে  ফেলে লাথি মারছিল । আমি মেঝের  এদিক সেদিক ছিটকে যাচ্ছিলাম । পরিচালক একপর্যায়ে শুটিং বন্ধ করে আসল পেমেন্টের চেয়ে কিছু কম টাকা দিয়ে আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিল । কারণ তারা যা চাচ্ছিল , আমি  সেটা করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না’।

আমরা অনেকেই ভুল ধারণা করে বসে থাকি পর্নঅভিনেতাদের কাজ বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কাজ। তারা মজা পাচ্ছে আবার টাকাও পাচ্ছে!
পর্নঅভিনেতাদের অভিনয় করার জন্যে প্রচুর পরিমাণ যৌন শক্তিবর্ধক ওষুধ সেবন করতে হয় পরিণতিতে ভুগতে হয়  বিভিন্ন রকমের জটিল অসুখ-বিসুখে।
 অবসাদ,হতাশা,গ্লানি তো রয়েছেই। মারাত্মক রকমের মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তারা। পর্নমুভিতে অভিনয় করে যে টাকা উপার্জন করেন তার বেশিরভাগই চলে যায় মাদকের পেছনে।। নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ রূপে বদলে যায়। কোন নারীকেই তারা ভালবাসতে পারেননা, ভুলে যান ভালোবাসা কী।
নারী ছাড়া কীভাবে একজন পুরুষ সম্পূর্ণ হতে পারে? সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত নারীর কাছে পুরুষেরা ঋণী। নারীর জলে স্নান করেই তো পুরুষ হয়েছে বিশুদ্ধ,সভ্য,পবিত্র। জীবনের বন্ধুর পথে নারী বন্ধু হয়ে হাত ধরে রেখেছিল বলেই না পুরুষ পেয়েছে জীবনের বন্ধুর পথে চলার সাহস।
 পর্নঅভিনেতারা কোন নারীর সঙ্গেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে পারেননা,  জীবনের কী করুণ পরিণতি! পৌরষত্বের কী নিদারুণ অপমান! 



এর পরেও কি আপনি মাউসে দুটো ক্লিক করে উঁকি মারবেন  সেই নিষ্ঠুর নীল  দুনিয়ায় ?

রেফারেন্সঃ

ক্যামেরার পেছনে

দর্শকদের কাছে পর্ণোগ্রাফী সুখ ও রোমাঞ্ছের এক জগত বলে মনে হয়। কিন্তু যারা এটা তৈরি করে বা এতে পারফর্ম করে, তাদের অধিকাংশই মাদক সেবন, যৌন-রোগ, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও আদম পাচারের সাথে জড়িত।

নিজেদের মোহময় রূপ ধরে রাখতে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক পরিশ্রম করে। যদিও ক্যামেরার পিছনে রয়ে গেছে মাদক সেবন, আদম পাচারের পাশবিক বাস্তবতা।



কিছু পরিবর্তন, পরিমার্জনের মাধ্যমে পর্নমুভিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন পর্দায় যা ঘটছে আ বেশ উপভোগ্য। কিন্তু আন-কাট ভার্সনের গল্প পুরোটাই বিপরীত। পর্ন পারফর্মারদেরকে তাদের এজেন্ট এবং পরিচালকরা নিয়মিত ভীতি প্রদর্শন করে। তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে এমন সব কাজ করতে বাধ্য করা হয় যা তারা করতে চায়না।
পর্ণোগ্রফাররা শুধুমাত্র অভিনেতাদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টগুলোই কাট-ছাট করে না, বরং তারা এই সত্যটাকেই লুকায় যে, অধিকাংশ পারফর্মারদের পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের আর কোন উপায়ই থাকে না।
প্রতারণার একটা অংশ এটাও যে, তারা চায় যেন সাধারণ মানুষ এই কথা মনে করে যে পর্ন একটা বৈধ বিনোদন যা গ্ল্যামারাস মানুষদের স্বেচ্ছায় তৈরি। দর্শকদের জন্য এটা খুবই প্রমোদ্ময় কারণ যারা এতে পারফর্ম করে তারা এটাকে বেশ উপভোগ করে। কিন্তু যে সত্যটা তারা লুকায় তা হলো, পারফর্মাররা এই জন্য হাসিমুখে উপভোগের অভিনয় করে যে ক্যামেরার পিছনে তার দিকে তাক করা আছে পিস্তল। লাস্যময় মুখটা গোমড়া হলেই হয়তো তা নিশানা ভেদ করবে।

আর একটা কুফল হলো আদম পাচার। যেহেতু এটা গোপন ব্যবসা তাই স্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ মুশকিল। কিন্তু যেসব ঘটনা আলোর মুখ দেখেছে তা সত্যই গা হিম করার মতো। যেমন, ২০১১ সালে মায়ামির দুইজন বাসিন্দার বিরূদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয় যে, তারা ৫ বছর যাবত মেয়েদেরকে পাচারের ফাঁদে ফেলার জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে তারা মডেলিং এর প্রস্তাব দেয়। যখন তারা অডিশনের জন্য আসে তখন তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করা হয়। এরপর অপহরণ অথবা ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ভিডিও করে তা পর্ণোগ্রাফীর দোকানে বিক্রি কতা হয়। একই বছর, মিসৌরির এক দম্পতির বিরুদ্ধে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে পর্ন অভিনয়ে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়। তারা মেয়েটিকে মারধর করে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধ করে, আরো নির্যাতন করতে থাকে যতক্ষন না সে রাজি হয়। তাদের তোলা একটি ছবি একটি পর্ন ম্যাগাজিন এর প্রচ্ছদে স্থান পায়।
এ ঘটনা দুটো তো শুধু প্রারম্ভিকা, এরকম শত ঘটনা পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছে। যার একটি হয়ত প্রকাশ পায়, কিন্তু শত মেয়ে নীরবে এর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও অনেককে পতিতাবৃত্তির শিকার হতে হয়।। বর্তমানে পর্ণের প্রসারে পতিতাবৃত্তি আর  যৌনব্যবসাকে খুব স্বাভাবিক মনে করা হয়। পর্ন পারফর্মারদের যৌন ব্যবসায় যোগদানে অবাক হবার কিছু নেই। বরং, এ দুটো যেন একই গাছের ফল। যে সকল লোক পর্ণে আসক্ত তারা অন্যদের দ্বিগুনেরও অধিকবার পতিতালয়ে যায়। অনেক সময় খদ্দেরকে আকৃষ্ট করতে ঐসব মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখানো হয়, যা থেকে সে বাছাই করে। এইসব মেয়েদের অধিকাংশই পাচারের শিকার যারা তাদের দালাল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং তার ইচ্ছনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের সাবেক একজন প্রতিনিধি ড। জেনিস বলেন,“দালাল ও পাচারকারীরা তাদের শিকার যৈন্দাস রূপে ব্যবহারের জন্য পর্ণোগ্রাফীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অশ্লীল সব ভিডিও দেখে মেয়েরা নিজেদের নিয়তিকে বুঝে যায় এবং তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।”

এক জরিপে[১] নয়টি দেশের ৮৫৪ জন পতিতার শতকরা ৪৯ ভাগ স্বীকার করেছে যে তাদের কাজের সময় পতিতাবৃত্তির সময় তা ভিডিও করে পর্ন মুভি বানানো হয়েছে। শতকরা ৪৭ ভাগ বলেছে যে, তাদের পুরুষ সঙ্গীরা তাদেরকে ঐসব কাজ করতে বাধ্য করেছে যা তা পর্ন মুভিতে দেখে। এতে বেশ কজন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করে।

অবশেষে বলতে হয়, পর্ন যৌন ব্যবসার জ্বালানি যোগান দেয়। পর্ন আর পতিতাবৃত্তি দুইটিই যৌন ব্যবসা নামক বিষবৃক্ষের দু’টি ফল।



রেফারেন্সঃ
[১]Farley, Melissa, Ann Cotton, Jacqueline Lynne, Sybill Zumbeck, Frida Spiwak, Maria E. Reyes, Dinorah Alvarez, and Ufuk Sezgin. “Prostitutuion and Trafficking in Nine Countries: An Update on Violence and Posttraumatic Stress Disorder.” Journal of Trauma 2, iss. 3 & 4 (2003), 44.http://www.prostitutionresearch.com/pdf/Prostitutionin9Countries.pdf (accessed April 26, 2014).