Friday, October 23, 2015

দু’আ তো করেছিলাম

পর্নমুভি দেখা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না মাঝে মাঝেই হারাম উপায়ে আপনার প্রবৃত্তির চাহিদা মেটাচ্ছেন এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে চান কিন্তু পারছেন না ? 

তাহলে দু’আ করতে থাকুন আল্লাহ্‌র কাছে । ইনশা আল্লাহ্‌ আপনার রব আপনাকে নিরাশ করবেন না । 

আর তোমাদের রব বলেছেন , ‘তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। ’ {সূরা আল-মু‘মিন আয়াত : ৬০ }


আল্লাহ্‌ লাজুক দয়াবান । যখন কোন মানুষ তাঁর দিকে দু’খানা হাত উঠায় (দু’আ করতে) তাহলে তিনি তা ব্যর্থ ও শুন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান ।
(তিরমিজী,ইবনু মাজাহ ইবনু হিব্বান । হাদীসের মান -সহীহ )

 এক লেকচার শুনেছিলাম । সেখানে তিনি বলছিলেন , “ যদি আপনি কোন পাপ কাজ থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টা করছেন বা রাসূল (সাঃ) এর কোন সুন্নাহ নিজের জীবনে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাতে সফল হচ্ছেন না ।

তাহলেআপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কাছে সাহায্য চান । রাতের গভীরে আপনার পাপের জন্য অনুতপ্ত হোন । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পড়ে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এর কাছে খালিশ অন্তরে দু’আ করুন , “ ইয়া আল্লাহ্‌ ! আমি ঐ কাজটা থেকে বেঁচে থাকতে থাকতে চাই কিন্তু আমার নফসের কারণে শয়তানের ধোকার কারণে আমি সেই পাপ থেকে দূরে থাকতে পারছি না । আমার চারপাশের পরিবেশও বিরূপ । আপনি সবকিছুর উপরেই পূর্ণ ক্ষমতাবানকাজেই আমাকে সেই কাজ থেকে দূরে সরে থাকার তৌফিক দান করুন ।

এই দু’আ করতে কি খুব বেশি কষ্ট হবে তেমন কোন সময় খরচ হবে ?
-না । কিন্তু সামান্য কষ্ট করে,সামান্য সময় ব্যয় করে আপনার করা এই দু’আ হাশরের ময়দানে আপনার কাছে অমূল্য ধন মনে হবে ।

হাশরের ময়দানে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁর বান্দা জিজ্ঞাসা করবেন , “ হে আমার বান্দাতুমি ঐ পাপ কাজটা কেন করলে কেন একাকী রুমের দরজা লাগিয়ে চোখের খিয়ানত করলে হারাম জিনিস দেখলে হারাম কাজে লিপ্ত হলে ?

বান্দা হয়তো উত্তর দিবে , “ ইয়া রব! আমি আমার নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না । আমার চারপাশের পরিবেশের ছিল ফাহেশায় (অশ্লীলতাবেহায়াপনানির্লজ্জতা) ছড়াছড়ি । আমার কি দোষ ?

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দার এই উত্তর শুনে বলবেন, “ তুমি আমার কাছে কেন সাহায্য চাও নি আমি কি কুরআনে বলিনি আমি এই মহাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান (ইন্নাল্লাহা ক্বুল্লি শাইয়ীন ক্বাদীর)কেন তুমি আমার কাছে চাওনি ?
আমি কি তোমার অন্তর পরিবর্তন করে দিতে পারতাম না চারপাশের ফাহেশা থেকে তোমাকে বাঁচাতে পারতাম না ?
বান্দা কোন উত্তর দিতে না পেরে চুপ হয়ে যাবে ।

তো ভাই ,আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চান । তাহলে হাশরের ময়দানে অন্তত আল্লাহ্‌কে (সুবঃ) এটা বলতে পারবেন , “ ইয়া আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম তোমার কাছে দু’আ করেছিলাম তুমি এখন আমাকে মাফ করে দাও।

আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন এভাবে যেন আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) সঙ্গে কথা বলছেন । ইয়া আল্লাহ! আমি সম্পূর্ণ ভাবে তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম তোমার উপরই ভরসা করলাম। তুমি আমাকে ঐ পাপ থেকে বাঁচাও আর না হলে আমাকে হাশরের ময়দানে ঐ পাপের কারণে পাকড়াও করোনা ।

সুবহানাল্লাহ্‌ ভাই এইভাবে দু’আ করলে আপনার শুধু লাভ আর লাভ । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) হয় সেই পাপ থেকে আপনাকে বাচাবেন আর না হলে তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচাবেন । দুই দিক থেকেই আপনার লাভ ।
                                                         -------------0----------------

সহীহে হাদীসে এসেছে বান্দা যখন আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে এবং ফলাফলের জন্য ব্যস্ত হয়ে যায় বলতে থাকে “কখন আল্লাহ্‌ আমার দু’আর উত্তর দিবেনকখন আমি আমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টা পাবোতখন তার দু’আর জবাব দেওয়া হয় না । (মুসলিম)
কাজেই আল্লাহ্‌র উপর থেকে আশা না হারিয়ে দু’আ করতে থাকুন । আপনার দু’আ ব্যর্থ হবে না ইনশা আল্লাহ্‌ .
 


 


Friday, October 16, 2015

ডেস্টিনি

বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

কতই বা বয়স হবে ছেলেটার । বিশের কোঠা হয়তো সবে পেরিয়েছে । মুখটা দেখলে আরো ছোট মনে হত । বাচ্চা ছেলের মতো একধরনের সরলত ছিল সেই মুখে । ছেলেটা জানতো কীভাবে জীবনকে উপভোগ করতে হয় । বন্ধু , আড্ডা ,গান । আজ এর বাসায় বারবিকিউ পার্টি , তো কাল ওর বাসায় লেট নাইট পার্টি , কয়দিন পর পরই বন্ধুদের সঙ্গে হ্যাং আউটে যেত। বাবা মার কেইউ তাকে শাসন করতে পারতো না । পরিবারের ছোট ছেলে ছিল তো । ছিল বলতে এখন আর নেই । হুট করে একদিন সে মরে পড়ে ছিল রাস্তার পাশে ।

ছেলেটা প্রচন্ড ভালবাসতো কার ড্রাইভিং । এই বয়সের ছেলে ছোকরারা যা হয় আরকি । আস্তে গাড়ি  চালাতে জানে না । এই ছেলেটাও তার ব্যতিক্রম ছিল না । রাস্তায় গাড়ি  নিয়ে নামলে আর হুশ থাকতো না স্পিডোমিটারের কাঁটার দিকে । ধুলো উড়িয়ে, প্রচন্ড শব্দে আশে পাশের মানুষজনকে সচকিত করে ড্রাইভিং করত । তবে খুব একটা ভয়ের কিছু ছিল না । ছেলেটা ‘কার’ বেশ ভালোই চালাতো ।
একদিন বন্ধুদের নিয়ে হ্যাং আউট করার সময় সে মারাত্মক একটা এক্সিডেন্ট করে বসল । তার বন্ধুদের তেমন কোন ক্ষতি হলনা । দুএক যায়গায় সামান্য কেটে গেল আর কারো কারো হাতের চামড়া এক আধটু ছিলে গেল । কিন্তু সে -স্পট ডেড।

 

বন্ধু বান্ধবেরা শোকে একটু বেশি মুষড়ে পড়ল । স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই কান্নাকাটি করল । কবর দিয়ে আসার পরও বেশ কয়েকদিন তাদের শোকের মাত্রা এতটুকুও কমলোনা । বরং কিছুটা যেন বাড়ল ।
সন্দেহ হওয়াতে লোকজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করল – “কী ব্যাপার তোমাদের ? তোমরা মনে হয় একটু বেশিই কান্নাকাটি করে ফেলছ ?”
কেঁচো খুড়তে যেয়ে বেরিয়ে এলো সাপ ।

... ছেলেটা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিল । পর্নমুভি দেখতে দেখতে তার এমন অবস্থা হয়েছিল যে তার আর ইন্টারনেটের ফ্রি পর্ন দিয়ে পোষাত না । তার দরকার ছিল হার্ডকোর পর্ন । তাই সে তার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পর্নমুভি কিনে নিত । নতুন কোন হার্ডকোর পর্ন মুভি রিলিজ হলেই সেটা তার ইমেইল একাউন্টে চলে আসত । তার বন্ধুরাও ছিল পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত । তার বন্ধুরা তাকে বলেছিল যে, আমরা সবাই টাকা দেওয়ার চেয়ে তোর মেইলে যা আসে তা আমাদের সেন্ড করে দিস। সেইটাই ভাল হবে। ছেলেটা তাতে রাজি হয়। তার মেইলে যা আসত সে সাথে সাথেই তার বন্ধুদের পাঠিয়ে দিত। একটা পর্যায়ে সে নতুন নতুন মেইল পাঠাতে পাঠাতে বিরক্ত হয়ে “অটো ফরোয়ার্ড” সিস্টেম চালু করেছিল। এর ফলে নতুন মেইল আসা মাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বন্ধুদের মেইল একাউন্টে সেগুলো চলে যেত।

তারা বেশি বেশি কাঁদছিল কারণ তাদের মেইল একাউন্টে তখনো সয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নতুন পর্ন এসেই যাচ্ছিল অথচ তাদের প্রিয় বন্ধুটিই ছিল অন্ধকার কবরে।
আল্লাহু আকবার!

ছেলেটার বন্ধুরা এটি বন্ধ করতে চাচ্ছিল কিন্তু তাদের হাতে কোন উপায় ছিলনা । ছেলেটার সাবস্ক্রিপশন শেষ হওয়ার পর তাদের একাউন্টে নতুন নতুন পর্ন আসা বন্ধ হল । তার সব বন্ধুরা তওবা করে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) দিকে প্রত্যাবর্তন করল ।
এটা নিছক বানানো কোন ঘটনা নয় । পুরোপুরি সত্য ঘটনা । এক শায়খ এই ঘটনার কথা বর্ণনা করেন । ইউটিউবে এই লিঙ্কে যেয়ে নিজে একবার শায়খের মুখ থেকে শুনুন

দুই.
কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে একটা মাল্টিলেভেল বিজনেস কোম্পানি “ডেস্টিনি” বেশ দৌরাত্ম বিস্তার করেছিল । এরা যদিও চোর বাটপার ছিল তবে এদের মাল্টিলেভেল বিজনেসের কন্সেপ্টটা অসাধারণ ছিল । আপনি তাদের কোম্পানিতে যতজন লোক ঢুকাবেন আপনি তাদের প্রত্যেকের ইনকাম থেকে কিছু কমিশন পাবেন । আপনার মাধ্যমে যদি খুব বেশি লোক তাদের কোম্পানিতে জয়েন করে তাহলে একসময় এমন অবস্থা হবে , আপনি কিছু না করেই মাসে আরামসে লাখ দুয়েক টাকা কামিয়ে ফেলবেন । বসে বসে পায়ের উপর পা তুলে শুধু খাবেন আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবেন।

সুবহানাল্লাহ , আল্লাহ্‌র (সুবঃ) বান্দার সাথে জান্নাত কেনাবেচার ব্যবসাতেও বান্দার
পাপ পুণ্যের হিসাব অনেকটা এভাবেই করা হয় । মনে করেন – আপনার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) যদি কাউকে হেদায়াত দান করলেন । এরপর সেই ব্যক্তি যে যে নেক আমল করবেন সেখান থেকে আপনার সওয়াবের একাউন্টে বেশ কিছু সওয়াব যোগ হয়ে যাবে (আমলকারী ব্যক্তিও তাঁর আমলের পূর্ণ সওয়াব পাবেন । তাঁর ভাগের সওয়াব বিন্দুমাত্র কমবে না )।
আবার আপনার কারণে কোন ব্যক্তি যদি পাপ কাজে লিপ্ত হয়, আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা করে তাহলে সেই পাপ কাজের জন্য সে ব্যক্তিতো শাস্তি পাবেই সেই সাথে আপনাকেও তার সঙ্গে শাস্তি ভাগাভাগি করে নিতে হবে । হাদীসে এরকম বর্ণনায় এসেছে ।
......... যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ভাল পথে আহবান করে, তবে যত মানুষ তার অনুসরণ করবে তাদের সকলের পুরস্কারের সমপরিমাণ পুরস্কার সে ব্যক্তি লাভ করবে, তবে এতে অনুসরণকারীদের পুরস্কারের কোনো ঘাটতি হবে না। আর যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিভ্রান্তির দিকে আহবান করে তবে যত মানুষ তার অনুসরণ করবে তাদের সকলের পাপের সমপরিমাণ পাপ সে ব্যক্তি লাভ করবে, তবে এতে অনুসরণকারীদের পাপের কোনো ঘাটতি হবে না। (মুসলিম)।

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় আমাদের নিষেধ করে দিয়েছেন আমরা যেন পাপ কাজে একে অন্যকে সাহায্য না করি । ইরশাদ হচ্ছে
'......সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।' (সূরা মায়েদাহ : আয়াত ৫)


ভাই আমার, আপনার নিজের লাইফ স্টাইল সম্পর্কে একটু চিন্তা করে দেখেন কীভাবে পদে পদে আল্লাহ্ (সুবঃ) এই আদেশ অমান্য করে চলছেন। জেনে অথবা না জেনে ফ্রেন্ড সার্কেলদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বন্ধুদের হার্ডডিস্ক পর্ন মুভি দিয়ে বোঝায় করে দিচ্ছেন,তাদের সঙ্গে  পর্নমুভির লিঙ্ক শেয়ার করছেন,আইটেম গার্লদের নিয়ে,ক্লাসের মেয়েদের নিয়ে রসালো আলোচনা করে তাদের মন বিষাক্ত করে দিচ্ছেন। 

ভাই আমার , বুকে হাত রেখে আজ একটা প্রশ্ন করুন তো নিজেকে । আপনি যে বন্ধুদের মাঝে এইভাবে অশ্লীল জিনিসপত্র ছড়িয়ে দিচ্ছেন এতে আপনার কি লাভ হচ্ছে ? সিরিয়াসলি কি লাভ হচ্ছে আপনার ?
 

আপনি নিজে যখন ঐসব নিষিদ্ধ জিনিস পত্র দেখছেন তখন নিজে খুব বড় ধরণের পাপ করছেন কিন্তুআদিমমজাটাও তো পাচ্ছেন । কিন্তু আপনার সাপ্লাই করা পর্ন মুভি দেখে আপনার বন্ধু বান্ধবরা যখন তাদের লালসা মেটাচ্ছে তখন আপনার কি লাভ হচ্ছে ? কোন লাভই হচ্ছে না । কিন্তু আপনাকে কাঁধে নিতে হচ্ছে আপনার বন্ধুর করা পাপের ভারও । আপনার বন্ধুদের কাছ থেকে যতজনের কাছে আপনার দেওয়া পর্ন মুভি বা আইটেম সং ছড়িয়ে পড়বে এবং যতজন যতবার তা দেখেমজানিবে আপনার একাঊন্টে তাদের করা পাপের ভাগ যোগ হতেই থাকবে । আপনি মজা টজা কিছুই পেলেননা , কিন্তু শেষ বিচারের দিন দেখা যাবে পাহাড় পরিমাণ পাপের মালিক হয়ে বসে আছেন । কেমন লাগবে তখন ? এটা কি শুধু শুধু পাগলামি করা নয় , নিজের পায়ে নিজেই কুড়োল মারা নয় ?
 
ভাই আমার , একবার চিন্তা করুন তো পৃথিবীতে শত শত জিবি পর্ন রেখে ধুম করে একদিন মারা গেলেন। তখন কী হবে আপনার ? কবরে গিয়েও পাপ কামাতে থাকবেন ।
 

এরকম পাগলামি করার কোন মানে আছে ? জীবন তো একটাই, তাই না ? একে নিয়ে জুয়া খেলার কোন মানে হয়? আপনি নিজে পর্ন মুভি দেখা ছাড়তে পারছেন না , চোখের হেফাজত করতে পারছেন না ভালো কথা । নিজে নিজে দেখুন , মজা নিন আর পাপ কামাতে থাকুন নিজ দায়িত্বে । কিন্তু ভুলেও এমন কোন কাজ করবেন না , যাতে আপনার বন্ধু বান্ধব , আপনার চারপাশের সমাজের মানুষ গুলোর মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে । খুব সাবধান ভাই , খুব সাবধান । ফেসবুকের কোন একটা পোস্টে আপনার করা একটা ক্লিক বা কমেন্ট অথবা আপনার কোন শেয়ার দেওয়া লিংকের মাধ্যমে হয়তো আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা মানুষগুলোর মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে অশ্লীলতা । এই ব্যাপারগুলোতেও সাবধান হওয়া দরকার । 

অনেক বোনই  ফেসবুকে  নিজেদের ছবি দেন । আপনারা হয়তো তেমন কিছু না ভেবেই এসব ছবি আপলোড দেন অথচ আপনাদের এইসব ছবি এক একটা ছোট অঙ্গার , যেটা এক সময় আস্তে বড় হয়ে একসময় পুড়িয়ে দিতে পারে কোন বিশাল বন।
তো যা বলছিলাম , পর্ন মুভির ডিলার হিসেবে সুনাম কুড়িয়ে থাকলে আপনার উচিত এখনি , ঠিক এই মুহূর্তে , এই আর্টিকেল পড়া শেষ না করেই ওজু করে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া । দু রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কাছে তওবা করুন । আপনার পাপ যদি আকাশ সমান উঁচু হয়ে যায় তাহলেও আল্লাহ্‌’র (সুবঃ) কাছে একনিষ্ঠ ভাবে তওবা করলে এবং ভবিষ্যতে সেই কাজ আর না করলে ইনশা আল্লাহ্‌ আল্লাহ (সুবঃ) আপনার পাপ ক্ষমা করে দিবেন ।

"তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।" ( ৫ঃ৭৪)


"কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (২৫ঃ৭০)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! যতক্ষন পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকতে থাক এবং আমার আশা পোষণ করতে থাক সে পর্যন্ত আমি তোমাকে মার্জনা করতে থাকি, তোমার যত পাপই হোক না কেন। আর আমি কোন ভয় করি না। হে আদম সন্তান! যদি তোমার পাপরাশি আসমান পর্যন্তও পৌছে, তারপর তুমি আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাকে মাফ করে দিই এবং আমি কাউকে গ্রাহ্য করি না।”


শেষ করব কুর’আনের দুটি আয়াত দিয়ে ...

“...মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে।”  (সূরা আত-তাওবা: ৭১ )
“...মুনাফিক নর ও মুনাফিক নারী একে অপরের অনুরূপ,তারা অসৎ কর্মের নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম নিষেধ করে।” – ( সূরা আত-তাওবা: ৬৭)

আপনি কোন দলে থাকবেন ?

- মুমীনদের দলে (যাদের বাসস্থান জান্নাত) না মুনাফিকের দলে (যাদের বাসস্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর) ?

জীবন আপনার সিদ্ধান্তও আপনার ।





Friday, October 2, 2015

শান্তি পাব কোথায় গিয়ে ?

বিসমিল্লাহির  রহমানীর রহীম



আর  ত্রিশ মিনিট পরে আপনার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রনিক্স -২ পরীক্ষা । আপনি ওপ-এম্প এর সার্কিট  ঠিকমতো সলভ করতে পারেননা , টাইমারের সার্কিট দেখলে মনে হয় কাগজে অর্থহীন কিছু আকাআঁকি । তারওপর  কোর্স টিচার মারাত্মক রকমের হাড় কিপটা । নাম্বার দিতেই চান  না , আর সেই সাথে তাঁর  অতীত সুনাম আছে  প্রশ্নপত্র কঠিন করে স্টুডেন্টদের সাথে “মজা” নেওয়ার ।  নিরুপায় হয়ে  পরীক্ষায় আসতে পারে এমন  কিছু প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ বানিয়ে আপনি মোবাইলে নিয়ে নিলেন ।    কিন্তু পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষেধ  । কোন স্টুডেন্টের কাছে মোবাইল পেলেই তৎক্ষণাৎ সেই স্টুডেন্টকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয় । সেই সাথে একবছর ড্রপ  । তো এরকম একটা ভয়াবহ পরিস্থতিতে,  আপনি পকেট থেকে আলতো করে মোবাইল বের করে টুকলিবাজি শুরু করেছেন পরীক্ষার হলে  স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছেন  ।  ফ্যানের নীচে থেকেও আপনার কপালে   বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে  গেছে  । হার্টবিট বেড়ে গেছে   আপনি  সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে  আছেন এই বুঝি স্যারের হাতে ধরা খেয়ে গেলেন ।
আপনার অন্তর বড় অশান্ত , বড় অস্থির ।


সুবহানআল্লাহ, একটু চিন্তা করে,  দেখুন দুনিয়ার সামান্য মানুষের বানানো আইন ভাঙ্গার কারণে , খুব ছোট একটা অপরাধ করার কারণেই আপনার মনের শান্তি কর্পূরের মতো উবে গেছে । তাহলে আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা , যিনি একেবারে শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সেই মহিমান্বিত আল্লাহর (সুবঃ) আইন প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে , প্রতিনিয়ত আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহ করে আপনি কী করে অন্তরে শান্তি পাবেন?  বলুন, কীভাবে শান্তি পাবেন ?

আল্লাহ (সুবঃ) আপনাকে বলেছিলেন  দৃষ্টি সংযত করতে , চোখের হেফাজত করতে ।
"......মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।"
(সূরা নূর : ৩০)


আপনি প্রতিনিয়ত  তাঁর সেই আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল  দেখাচ্ছেন । রাস্তায় মেয়েদেরকে চোখ দিয়ে  গিলে খাচ্ছেন ,  বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েদের ফিগার নিয়ে থিসিস করছেন ,  গভীর রাতে আপনার  মোবাইলের স্ক্রিন নীল হয়ে  যায়, সার্ফিং করে বেড়ান এক্সরেটেড সব ওয়েবসাইটে, পর্নস্টার আর আইটেম গার্লরা আপনার  ড্রিম গার্ল, স্বপ্নের রাজকন্যা  । আপনি কিভাবে শান্তি পাবেন ?

বন্ধু , আড্ডা , গান , জিএফ, বিএফ ,  সিরিয়াল ,ফেসবুকিং, সেলফি , ডিএসএলআর, কেএফসি,  পিৎজাহাট  এগুলো নিয়েই আপনার কেটে যাচ্ছে অষ্টপ্রহর । ভাবছেন ,সুখেই আছি । বুকে হাত রেখে একবার সত্যি করে  বলুন তো, আপনি কী আসলেই শান্তিতে  আছেন, সুখে আছেন   ?

  কেন এক বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে শেষ বিকেলের আলোয়  অজানা কারণে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়? গভীর রাতে কি  যেন ভেবে  আপনার চোখ ভিজে যায় জলে । দলা বাধা কষ্টগুলে ভিড় জমায় বুকের ভেতর ।   অন্তরটা খাঁ খাঁ করে  ।  কি যেন নেয় আপনার ।  কোথায় যেন একটা  অপরিপূর্ণতা । কোথায় যেন কিসের একটা অভাব ।   জীবনটা  বড্ড বেশী জটিল মনে হয়  ।


আইটেম গার্লদের কোমর দোলানি আর দেহের ভাঁজ দেখে আপনার  মন কি অস্থির , অশান্ত হয়ে যায় না ? মনের ভেতরের পশুটা কি আপনাকে কুঁরে কুঁরে  খায় না? প্রত্যেক বার পর্ন মুভি দেখার  পর , মাস্টারবেট করার পর  আপনার কি মরে  যেতে ইচ্ছে করে না ? মনে হয়না কেন করলাম , কেন করলাম , কেন কেন ...... ?

  
কিসের নেশায় ডুবে আছেন ভাই আপনি ? কিসের নেশায় ?

 পর্নস্টারের নিটোল দেহ ,  জিএফের মনে ঝড় তোলা চোখ, আইটেম গার্লদের লাস্যময়ী হাসি ? আপনি এদেরকে কি একেবারে নিজের মতো করে কখনো পাবেন ? পাবেন না । এরা তো ইলিউশান ছাড়া কিছুই না । এরা একদিন বুড়িয়ে যাবে । দেহে অনেক ভাঁজ পড়বে , চামড়া কুচকিয়ে যাবে, দাঁত পড়ে যাবে , চোখ ধূসর হয়ে যাবে , চুল পাটের শনের মতো হয়ে যাবে । সবশেষে মাটির নীচে পোকা মাকড়ে খুবলে খুবলে খাবে এদের দেহ , গলে পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে ।

এতেই আপনার এত আকর্ষণ! এদের কারণেই আপনি সেই জাহান্নামের আগুণকে তুড়িমেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন , যা অন্তর পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলবে আর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর ।

আপনি ভুলে যাচ্ছেন আপনার সেই আয়তনয়নাজান্নাতি স্ত্রীর কথা যিনি আপনার জন্য লক্ষ কোটি বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন । যাঁর মাথার স্কার্ফ এই দুনিয়া এবং আকাশের মধ্যবর্তী সবকিছুর থেকেও উত্তম । প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ জান্নাতের স্ত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ (সুবঃ) সার্টিফিকেট দিয়েছেন ।

জান্নাতেও ঝুম বৃষ্টি হবে , আপনার জান্নাতি স্ত্রীকে নিয়ে রিকশায় বসে আপনি লক্ষ কোটি বছর ধরে বৃষ্টি বিলাস করতে পারবেন , হা করে জ্যোৎস্না গিলতে পারবেন , শেষ বিকেলের মরে আসা নরম হলুদ আলোয়  দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবেন হাজার হাজার বছর ।

দুজনে ঘুরে বেড়াবেন জান্নাতের বাগানে । মাথার উপর থেকে ঝরে পড়বে গাছের ঝরা পাতা । আপনাদের শরীরে আলতো পরশ বুলিয়ে দিয়ে যাবে । আপনার স্ত্রী আপনার কাঁধে মাথা রেখে হাঁটবে , আপনি তাঁকে শোনাবেন জান্নাতের কোন প্রেমের গান , পশু পাখি অবাক হয়ে শুনবে আপনার গান । এত সুন্দর গান কে গায় তা দেখার জন্য চাঁদটাও হয়তো উঁকি দিবে আকাশে ।

আমি আপনি কত পাগল , কত পাগল !!!

......"নারী জাতির প্রতি ভালোবাসা , সন্তান সন্ততি , কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রুপা , পছন্দসই ঘোড়া , গৃহপালিত জন্তু ও জমীনের ফসল মানব সন্তানের জন্য লোভনীয় করে রাখা হয়েছে । অথচ এ সবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের কিছু ভোগের সামগ্রী মাত্র । উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই রয়েছে

(সুরা আলে ইমরান , আয়াত -১৪)


পর্নমুভির ফ্যান্টাসি , আইটেম গার্লদের গ্ল্যামারে কোন শান্তি নেই ।  এগুলো আপনার অন্তরকে   ক্ষত বিক্ষত করে তোলে    শান্তি নেই ঝুম বৃষ্টিতে ‘জিএফের” সঙ্গে একি  রিকশাতে পাশাপাশি বসে কাকভেজা হয়ে ভিজাতে, চাঁদনী  পসর রাতে হা করে জ্যোৎস্না গিলাতে । এগুলো আপনাকে ক্ষনিকের আনন্দ দিতে পারে কিন্তু শান্তি দিতে পারে না ।
  
শান্তি আছে , আল্লাহর আদেশ মেনে দৃষ্টি হেফাজত করার মধ্যে । শান্তি আছে আপনার রবকে সিজদাহ করার মধ্যে  , রবের সামনে রাতে  একাকী দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলাতে । নিজের নফসের অবাধ্যতা করে রবের দাসত্ব করাতে ।  ভাই এই  শান্তি   অমূল্য । দুনিয়ার কোন  কিছুর বিনিময়ে এই শান্তি পাওয়া যায় না  একবার এই শান্তি  পেলে আপনি বারবার চাইবেন এই শান্তি পেতে ।   একবার চেষ্টা করেই দেখুন না । একটা সপ্তাহ আল্লাহ্‌র নফরমানী না করে চোখের হেফাজত করে দেখুন না ফলাফল কি হয় ।  শান্তি না পেলে ভাল না লাগলে আবার আগের লাইফ  স্টাইলে ফিরে গেলেন । একবার তো  চেষ্টা  করে দেখবেন ।  
   
  .........অবশ্যই আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়” (আল কুর'আনঃ সূরা ১৩, আয়াত ২৮).




Sunday, September 20, 2015

নরক

পর্ণের দুনিয়াটাকে অনেক আকর্ষণীয় মনে হয় তাই না? কিন্তু ভিতরের কাহিনী কিন্তু একদম উল্টো। বিকৃত রুচির মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে কত মেয়েকে যে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হয় আর কত মেয়ের চাপা কান্না যে বাতাসে হারিয়ে যায় সে খবর কি আমাদের কানে আসে? এই আর্টিকেলটাতে কিছু পরিসংখ্যান আর তথ্যের সাহায্যে পর্ণ অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের ভয়াবহ জীবন তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।



“ছেলেরা আপনার মুখে ঘুষি মারতে থাকবে, বলতে গেলে আপনাকে ছিড়ে ফেলবে।আপনার মনে হবে আপনার প্রাণ বেরিয়ে আসছে আর এটা থেমে থাকে না।আপনাকে এখানে একটা ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখানো হবে, মানুষ হিসেবে নয়।মানুষ যখন সমাজে নিজের স্থান খুজে পায় না তখনি সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে” - সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী



পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির কটি সেকেণ্ডারি নেচিবাচক প্রভাব হল  চুড়ান্ত পর্যায়ে   মাদকাসক্তি। একজন পর্ণ অভিনেত্রী  স্বীকারোক্তি “আমরা যেসব মাদক ব্যবহার করি তা হল এক্সটেসি,কোকেইন,মারিজুয়ানা(গাজা),জানাক্স,ভালিউম,ভিসোডিন আর এলকোহল


২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।



জানুয়ারি ২৮,২০০৮ এ এক পুরুষ পর্ণঅভিনেতা তার ব্লগে লিখেনঃ
“মাদক আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় একটি সমস্যা।কেউ যদি আপনাকে অন্য কিছু বলে তবে সে মিথ্যা বলছে।শুধু এই মাদকের জন্য অগণিত মেয়ে নিজেদের বেচে থাকার ইচ্ছা উদ্যম সব হারিয়ে ফেলেছে এটা চিন্তা করলেই  আমি খুবই কষ্ট পাই আর তাদের এই অধঃপতন খুবই বেদনাদায়ক,অন্তত আমার কাছে।এটা মানতেই হবে যে, বেশিরভাগ মাদকাসক্ত প্রফেশনাল সহায়তা ছাড়া তাদের অভিশপ্ত জীবন থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না।আমি শুটিং সেট থেকে শুরু করে পার্টি এমনকি গাড়িতেও ড্রাগের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখেছি।আনুমানিক ৯০% 


জনবল(পারফরমার,ড্রাইভার,এজেন্ট,মালিক ইত্যাদি) মারিজুয়ানা(গাজা) তে আসক্ত।সম্প্রতি স্টেজে আমার সাথে কর্মরত মেয়েটি আচমকা অজ্ঞান হয়ে যায়(সে অক্সিকোন্টিনে আসক্ত ছিল)আরেকটি মেয়ে GHB ওভারডোজ হয়ে সেটেই লুটিয়ে পড়ে(GHB-পার্টি ড্রাগ যেটা এলকোহলের সাথে সহজে মিশে না)প্রেস্টিজিয়াস  পুরস্কার পেয়েও ইতিহাস আছে এমন মেয়েদের যারা এতই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তারা সেটা আনতে যেতে পারে নি।কারণ তারা প্রায় ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়ে নিজের চেহারা গঠন সব ধুলোয় মিশিয়ে ফেলে।প্রশ্ন হল এখানে মাদক এত সহজলভ্য কেন??প্রথমত এখানে মুলত ১৮-২১ বছরের মেয়েরা কাজ করে যাদের অনেকেই অশিক্ষিত নয়তো অল্প শিক্ষিত।অনেকেই আসে যারা বলতে গেলে কপর্দকশূন্য অথবা পিজার দোকানে সস্তা কাজ করে।



এখানে এসে তারা মাসে ১০ হাজার ডলার আয় করে যার বিনিময়ে মাসে তাএর ৫ ঘন্টা করে ১০-১২ দিন কাজ করতে হয়।মাদকের দালালরা হাঙরের মত তাদের শিকার করে।এই মেয়েদের হাতে থাকে অবসর সময় আর প্রচুর কাঁচা টাকা।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে মাদক ব্যবসায়ীদের বাজিমাত।
২০১২ সালে ১৭৭ জন পর্ণ অভিনেত্রীদের উপরে করা একটা জরিপে দেখা গেছে   জীবনে একবার হলেও ৭৯%  পর্ণ অভিনেত্রী  marijuana  ব্যবহার করেছেন , hallucinogens  ব্যবহার করেছেন ৩৯% , ecstasy  ব্যবহার করেছেন ৫০% , cocaine  ব্যবহার করেছেন ৪৪% , methamphetamine ব্যবহার করেছেন ২৭% , tranquilizers ব্যবহার করেছেন ২৬% , heroine ১০% ।






মাদকের ছড়াছড়ির সাথে সাথে নির্যাতনের বিষয়টিও ব্যাপক 

আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে।একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে 

১০০% স্ট্রিপার শারীরিক নির্যাতন অথবা গালাগালির শিকার হন।

৯১% রিপোর্টে দেখা গেছে কাস্টমাররা মৌখিক ভাবে তাদের  

অপদস্ত করে, সাথে সাথে প্রায় সবাই শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়।

স্ট্রিপারদের গায়ে হাত দেয়া নিষিদ্ধ হলেও রিপোর্টে দেখা যায় 

কাস্টমাররা তাদের হাতে(৮৮%), স্তনে(৭১%),পশ্চাৎদেশে(৯১%) 


স্পর্শ করে।আক্রমণের ঘটনাও কম নয়।চুল টানা 

(২৭%),চিমটি(৫৪%),চড় মারা(৫৮%) এমনকি কামড়ে 

দেয়ার(৩৬%) মত ঘটনাও ঘটে।এই আক্রমণগুলো স্ট্রিপক্লাবের ভিতর বডিগার্ড আর স্টাফদের সামনেই ঘটে।

 ইদানিং পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি জোর দিচ্ছে চড় থাপ্পড়, অমানবিক নির্যাতন আর থুথু ছিটানো রাফ আর পেইনফুল সেক্সের প্রতি। একটা সিনে পুরুষ অভিনেতা অভিনেত্রী কে ধরে টয়লেটের কমোডে মুখ ঢুকিয়ে চেপে ধরে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই নাকি ক্লাইম্যাক্স। ৮৮% ভাগ ফিল্ম শারীরিক ও মানসিক ভয়াবহ নির্যাতনে ভরপুর।


Subscribe to Shelley's Blog

আমাদের জানামতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সনের মধ্যেই সান ফেরনান্দ ভ্যালি , ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ১৫০০ যৌন কর্মীর ২২৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছে এইডস , আত্মহত্যা , মাদক সেবনের মাধ্যমে । এদের অনেকেই হয়েছে হত্যার শিকার আবার অনেকে বরণ করেছে অকাল মৃত্যু । পৃথিবীর কোন ইন্ডাস্ট্রি , এমনকি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যা কিনা পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির চেয়েও ১০ গুণ বড় এমন পরিসংখ্যান নেই । যেখানে একজন আমেরিকানের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৮.৬ বছর সেখানে একজন যৌনকর্মীর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৩৬.২ বছর ।


পর্ণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর খুব  গা ঘিনঘিনে  বিষয় হল যৌন রোগ  । লস অ্যাঞ্জেলস এর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় যৌনকর্মীদের ক্লামিডিয়া ও গনেরিয়া সংক্রমণ সম্ভবনা ১০ গুণ বেশি । তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই রোগগুলো সংক্রমণ সম্ভবনা যৌনকর্মীদের মাঝে কল্পনাতীত ভাবে বেশি । ডাক্তার শেরন মিশেল সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী ও AIM (Adult Industry Medical Healthcare Foundation) এর  ফাউন্ডারের সঙ্গে  এক সাক্ষাতকারে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি আরও উল্লেখ করেছেন ৬৬% যৌনকর্মী হারপিস এ ভোগেন , ১২-২৮% এর রয়েছে যৌন রোগ , ৭% এর রয়েছে HIV”

কোন যৌন রোগ আছে কিনা তার পরীক্ষা পর্ণ শিল্প আইনের আওতাভুক্ত নয় । কর্মীদের তাদের নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে হয় । পর্ণ সেট এ একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে মেলামেশার দরুন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল হয় অনিশ্চিত যার ফলে পর্ণ শিল্পে যৌন রোগের প্রাদুর্ভাব আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে পর্ণ স্টারদের অনেক কিছু বলার আছে পর্ণ ভোক্তাদের কাছে এই যৌনরোগগুলোর ব্যাপারে ।.


তো বুঝলেন তো , ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রীনের এইপাশে বসে পর্ণমুভির জগতটাকে  যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন , পর্দার ওপাশে  লুকিয়ে আছে কতটা   বর্বরতা  আর  নিষ্ঠুরতা ?


এখানে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন এসে  যায় , পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা যদি  সত্যিই এতটা খারাপ হয় , সেখানে যদি নারীদেরকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়  তা হলে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি  বন্ধ করে দেওয়া হয়না কেন ? পর্ণ ওয়েবসাইটগুলো তো ব্লক করে দিলেই কেল্লাফতে । আর মানবাধিকার রক্ষায় সদা জাগ্রত , নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত   আমেরিকা, ফ্রান্স এরা চুপ করে কেন ? সুশীল সমাজ , মুক্তমনারা কেন এগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন কথা বলে না ?
-      কারণ  টাকা জী টাকা ।  
 আপনাকে  পর্ণ মুভির বাজার সম্পর্কে একটা হালকা পাতলা ধারণা দিলেই ইনশা আল্লাহ্‌ বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা


 “Online pornography is the first consistently successful e-commerce product.”
-      Donna Rice Hughes  ( ceo of enough is enough,  working for ensuring  the internet safety of children and families)
-       

 পৃথিবীতে আনুমানিক ৪২ লক্ষ পর্ণ ওয়েবসাইট আছে যা মোট ওয়েবসাইটের ১২% পৃথিবীর প্রায় ৭২ লক্ষ মানুষ এই ওয়েবসাইটগুলোর মাসিক পরিদর্শক । প্রত্যেক দিনের অনুসন্ধান আবেদনের (search request) চার ভাগের এক ভাগই থাকে পর্ণ বিষয়াবলীর উপর যার পরিমাণ দাড়াই ৬৮ লক্ষ । যেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ আমেরিকানই পর্ণ ওয়েবসাইটের নিয়মিত পরিদর্শক ।U.S.A প্রাপ্তবয়স্ক চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১ বছরে প্রায় ৪০০০-১১০০০ চলচিত্র নির্মাণ করে এবং এর মাধ্যমে আয় করে আনুমানিক ৯-১৩ লক্ষ কোটি মোটা অঙ্কের টাকা ।

২০০৬ সালে sex-related entertainment business’ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকার ১৩ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে ।
-Fishbein, president of the Adult Video News Media network


এমনকি  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি হলিউডের চেয়েও বেশী লাভজনক ।  প্রতিবছর গড়ে  ১৩০০০ পর্ণ মুভি তৈরি করা হয়  অন্যদিকে প্রতিবছর হলিউডে মাত্র ৫০৭ টি মুভি তৈরি করা হয় । পর্ণ মুভি থেকে মুনাফা আসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর হলিউডের মুভিগুলো থেকে  ৮.৮ বিলিয়ন ডলার । (Bridges and Wosnitzer, 2007).




এখানে আর একটা ব্যাপারও মাথায় রাখা জরুরী । পর্ণ মুভি তৈরি করার সময় খুব মোটা অংকের বাজেটের প্রয়োজন পড়ে না , কিন্তু হলিউডের মুভি গুলোর বাজেট হয় খুব বড়  অংকের । তারমানে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ বড়সড় টাকা হাতিয়ে নেয়


পর্ণ মুভির ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঘুরে ফিরেই  আমেরিকার নাম আসবে ।  আমেরিকা হল সে দেশ পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির খনি । এখানেই সবচেয়ে বেশী পর্ণ মুভি  তৈরি করা হয় ।   এই আমেরিকার  Californiaতে  বিশ্বের ৮৫% এডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি হয়।বেশিরভাগ নারী প্রতিভা(!) এজেন্সি এই এলাকার আশে পাশেই অবস্থিত আর অনেক নারী মডেল এখানে আসেন পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে।পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা, এমনকি ছোট বড় সব পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি এই “California” তেই  অবস্থান করছে।পৃথিবীতে যতগুলো পর্ণ ওয়েবসাইট আছে তার শতকরা ৮৯ ভাগের মালিক আমেরিকানরা ।


তাহলে এবার বলুনতো দাদাবাবু , আমেরিকার কি দরকার পড়ছে পর্ণমুভির ইন্ডাস্ট্রী গুলো বন্ধ করে দেওয়া ?  অল্প পুঁজিতে পর্ণমুভি বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতানো বাদ দিয়ে  সে কেন  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রী বন্ধ করবে ? সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে  বোকা ছাড়া আর কে  জবাই করতে চায়, বলুন?
   তাইলে,  পর্ণ ইন্ডাস্ট্রীতে ড্রাগসের ব্যবহার, নারী নির্যাতন  ...... ... আরো কি কি জানি ?
আমেরিকার মত উদার গনতান্ত্রিক দেশ , নারী স্বাধীণতায় বিশ্বাসী দেশ এগুলো মেনে নিবে ?
 আরে ভাই সহজ ব্যাপারটা বোঝেন না কেন ,  টাকার  আর তেলের গন্ধ পেলে পশ্চিমা দেশগুলোর হুশ থাকেনা  আর নারী  নির্যাতন ? তাদের ভাষায় তো  শুধু  মুসলিমরাই নারী  নির্যাতন  করে- তারা নারীদেরকে পর্দার আড়ালে আবদ্ধ করে রাখে , তাদেরকে ঘরে বন্দী  করে রাখে , সম্পত্তিতে সমানধিকার দেয় না ব্লা ব্লা ব্লা ......... ।
  


বোঝা গেছে  আমেরিকা কি চীজ ?

#হিপোক্রিট